ব্যাংকিং খাতে ঋণের হার বেড়েছে ২০.২০ শতাংশ

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:২৯
-67bedef0a269c.jpg)
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে শ্রেণিকৃত ঋণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ২০.২০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ছিল ১৬.৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে দেশের ৬১টি তফশিল ব্যাংকের সিএল (ক্লাসিফাইড লোন) বিবরণী পর্যালোচনা করে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭,১১,৪০১.৯১ কোটি টাকা, যার মধ্যে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৩,৪৫,৭৬৪.৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩,০৫,০৭৩.৩৮ কোটি টাকা, যা গত ত্রৈমাসিকে (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) ছিল ২,৮৪,৯৭৭.৩১ কোটি টাকা।
শ্রেণিকৃত ঋণ বৃদ্ধির কারণ
গত এক বছরে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) শ্রেণিকৃত ঋণের গ্রস হার ৯.০০% থেকে ২০.২০%-এ উন্নীত হয়েছে, যা ১১.২০% পয়েন্ট বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নলিখিত কারণগুলো এই ঋণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী—
১. নতুন ঋণ বিতরণ কমেছে, ফলে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। ২. বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৯/২০২৪ অনুযায়ী মেয়াদী ঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ কতিপয় গ্রাহকের বড় অঙ্কের ঋণ শ্রেণিকৃত করেছে। ৪. ঋণ শ্রেণিকরণের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত রিট ভ্যাকেট হওয়ায় অনেক ঋণ নতুন করে শ্রেণিকরণ হয়েছে। ৫. পুনঃতফসিলকৃত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় তা পুনঃ শ্রেণিকরণ হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি ব্যাংকের অবস্থা
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৪২.৮৩%, যা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ছিল ৪০.৩৫%। অপরদিকে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই হার ১৫.৬০%, যা গত ত্রৈমাসিকে ছিল ১১.৮৮%।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে এই ঋণ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নির্ভর করবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ আদায়ের সক্ষমতার ওপর।