-677283840d986.jpg)
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মগত নাগরিকত্ব বিলুপ্ত বিষয়ক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম টং। বিষয়টি তার জন্য শুধু পেশাগত নয়, বরং ব্যক্তিগতও।
ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসন-বিরোধী নীতি আদালতে আটকে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন এই অ্যাটর্নি জেনারেল।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের সংবিধানসম্মত অধিকারকে আঘাত করবে। এটি অনেকের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করেন, এই প্রস্তাব সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন এবং অভিবাসীদের অধিকার বঞ্চিত করবে।
এই আইনি লড়াইয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার নিজের পরিবার অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল। তিনি মনে করেন এই আইন তাদের মতো অভিবাসীদের জন্য একটি বড় বাধা তৈরি করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, ‘আমাদের সংবিধান সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং আমি এটি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের বিষয়বস্তু হয়েছিল, কারণ এটি অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে, ট্রাম্প তার প্রচারণার সময় ঘোষণা করেছিলেন, তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই তিনি জন্মগত নাগরিকত্ব বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেবেন। যা অবিলম্বে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে জেনারেল উইলিয়াম টং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন 'আমি প্রথম ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করব।’
জেনারেল উইলিয়াম টং ২৩ জন ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি জেনারেলের একজন যারা অভিবাসন সমকামী, উভয়কামী, ট্রান্সজেন্ডার এবং কুইয়ার সম্প্রদায় (এলজিবিটিকিউ) সম্প্রদায়ের অধিকার, পরিবেশ নীতি এবং গর্ভপাতের মতো বিষয়গুলোতে ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।
জন্মগত নাগরিকত্বের বিষয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগই মনে করেন, সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বা নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং দেশটির বিচারব্যবস্থার অধীনে রয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।’
ট্রাম্প বলেছেন, ‘একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করবেন যে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে বসবাসকারী অভিভাবকদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাবে না। তবে এই নীতি পূর্ববর্তী সময়ে প্রযোজ্য হবে না।’
কেই/এমআই