শিশুকে বিষপানে হত্যার অভিযোগ সৎ মায়ের বিরুদ্ধে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৫, ১১:১৭

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা মাহমুদা খাতুনকে বিষপানে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎ মা হুমাইরা খাতুনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় মাহমুদাকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন স্বামী শাহিন আলম। এ সময় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন শিশুটির বাবা।
মাহমুদা কোটচাঁদপুরের ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের শাহিন আলমের মেয়ে এবং ভোমরাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে শাহিন আলমের প্রথম স্ত্রী আফরোজা খাতুন মারা যান। পরে শাহিন বিদেশে চলে যান। তখন থেকে শিশুটি বড় হয় তার দাদি সখিনা খাতুনের কাছে। এরপর শাহিন আলম দ্বিতীয় বিয়ে করেন হুমাইরা খাতুনের সাথে। তবে কিছুদিন পর থেকেই শাহীনের প্রথম সন্তানের সাথে সৎ মা হুমাইরার সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।
সেই কলহের জেরে গত ১ মার্চ সৎ মা হুমাইরা কৌশলে কোমল পানীয়ের সাথে বিষ মিশিয়ে শিশুটিকে খাওয়ান। পরে মাহমুদাকে প্রথমে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তবে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মার্চ দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা শাহিন আলম বলেন, মেয়েটি আমার কাছে ছিল, কিন্তু সে সহ্য করতে পারতো না। তবে তাকে যে এভাবে পরিকল্পিতভাবে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবে সেটা আমি বুঝতে পারেনি।
শাহিনের দাদি সকিনা বেগম জানান, আমি মাহমুদাকে লালনপালন করে বড় করেছি। কিন্তু হুমাইরা কখনই মেয়েটিকে ভালো চোখে দেখতো না।
শাহিনের দাদি সকিনা বেগম বলেন, মাহমুদার জন্মের সময় তার মা আফরোজা খাতুন মারা যান। এরপর থেকে আমিই তাকে লালনপালন করে বড় করেছি। ওর বাবা শাহিন সৌদি আরবে অবস্থানকালে একই গ্রামের জিয়াউর রহমানের মেয়ে হুমাইরাকে মোবাইলে বিয়ে করে। প্রায় দুই মাস আগে সে দেশে ফিরে তাকে বাড়ি আনে। সে কখনই মাহমুদাকে ভালো চোখে দেখতো না। কিন্তু বিষ খাইয়ে হত্যা করবে, তা আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। আমি হুমাইরার শাস্তি চাই।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আল ইমরান জুয়েল বলেন, বিষক্রিয়ায় শিশুটির মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত পুড়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিশুটি তার আগেই মারা গেলো।
কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, শিশু মাহমুদা হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় বাদী হয়েছেন শিশুটির বাবা। ওই মামলায় একজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুরহান উদ্দীন/এমবি