Logo

সারাদেশ

গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে মৌ-চাষে সফল যুবক

Icon

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ১৯:৪৬

গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে মৌ-চাষে সফল যুবক

গাজীপুরের শ্রীপুরের যুবক সজীব আলম খান একসময় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। কিন্তু এখন তিনি মৌ-চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। শখের বসে নানার কাছ থেকে মৌচাষের নিয়ম শিখে এই পেশায় আগ্রহী হন তিনি।গার্মেন্টসের কষ্টকর জীবনের তুলনায় মধু চাষে অনেক বেশি সফলতা পেয়ে আনন্দিত সজীব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কেওয়া গ্রামে লিচু বাগানে মৌচাষের কাজ চলছে। মৌমাছিরা লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে, আর মৌচাষিরা গাছে গাছে বাক্স স্থাপন করে সেই মধু আহরণ করছেন।

সজীব জানান, তিনি বিভিন্ন জায়গায় মৌমাছির বাক্স স্থাপন করেন এবং ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে মধু সংগ্রহ করা হয়। যদিও এ বছর বৃষ্টি না হওয়ার কারণে মধু সংগ্রহ কিছুটা কম হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত ৩৪টি ট্রে থেকে ১২০ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মণপ্রতি দাম ১৬ হাজার টাকা।

মৌচাষ পদ্ধতি
সজীব জানান, মধু সংগ্রহের জন্য প্রথমে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছিদের শান্ত করা হয়, তারপর চাকগুলো মেশিনের সাহায্যে পরিষ্কার করে মধু সংগ্রহ করা হয়। একটি বাক্সে সাধারণত তিন ধরনের মৌমাছি থাকে—রানি, পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি। যে বাক্সে রানি মৌমাছি থাকে, সেখানেই বেশি মধু পাওয়া যায়।

মধু সংগ্রহের ব্যবসায়িক সাফল্য
মধু কেনার জন্য পাইকাররা সরাসরি খামারে এসে মধুর গুণাগুণ দেখে দরদাম করেন। সজীবের মতে, গার্মেন্টসের তুলনায় মৌচাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং স্বাধীন। তিনি বলেন, মধু চাষের এই উদ্যোগ তাকে শুধু স্বাবলম্বীই করেনি, বরং অন্যদেরও এই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, এই উপজেলায় ৭৩০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে এবং মৌচাষীদের জন্য ১২শ’ মৌ-বাক্স বসানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ টন মধু আহরণ করা হয়েছে।

মৌচাষের সম্ভাবনা ও উন্নয়ন
পিরুজালী গ্রামের মৌচাষি লোকমান জানান, প্রশিক্ষণ শেষে তারা ২৫ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা পান, যা দিয়ে পাঁচটি বাক্স তৈরি করা যায়। শুরুতেই একটু বেশি ঋণ পেলে নতুন উদ্যোক্তারা আরও বেশি আগ্রহী হবেন বলে তিনি মনে করেন। 

লিচু বাগানের মালিকরাও বলছেন, মৌচাষের ফলে লিচুর উৎপাদন বেড়েছে। এটি কৃষকদের জন্যও বেশ লাভজনক।

আতাউর রহমান সোহেল/এটিআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর