‘দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জেলা খুলনা জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে’

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৫০

ছবি : বাংলাদেশের খবর
সুন্দরবন বেষ্টিত উপকূলীয় উপজেলা খুলনার কয়রায় পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগণের উন্নয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) উত্তর খেওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাস। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘খুলনা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম জেলা হলেও জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে। খুলনায় চারটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে মানুষ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানে যেতে পারে। জনগণকে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে। এ দেশের অদক্ষ অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে হয়রানি ও শোষণের শিকার হয়। নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা না থাকায় কম মজুরি, নিচু পদে কাজ করা এমনকি চাকরিচ্যুত হওয়া সহ নানা রকম বিড়ম্বনায় পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে দেশের উন্নয়ন থমকে যাবে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ জনগণকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে যুগোপযোগী ও পছন্দের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলা যায়।’
মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেএম নাজমা পারভিন বলেন, ‘ভীত কত মজবুত তার উপরে নির্ভর করে একটি ভবনের স্থায়িত্ব। একইভাবে একটি শিশুকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের দুর্বল দিকগুলো খুঁজে আমরা পৃথক গ্রুপ করে বিশেষভাবে পাঠদান করি। আজকের মতবিনিময় সভায় এসে আমরা অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’
গজালিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে রেমিট্যান্স আনার জন্য বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা অত্যাবশ্যক। মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি-উর্দু ভাষা শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা এখনও বৈষম্যের শিকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেলেও এবতেদায়ী শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী পাওয়া দুষ্কর। সকল মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি করার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবি জানান তিনি।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্মচারি কল্যাণ বোর্ড খুলনার পরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান, স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা শিশির মোহাম্মদ বেলাল, কয়রা প্রেসক্লাবের সভাপতি সদর উদ্দিন আহমেদ, কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ।
তরিকুল ইসলাম/খুলনা