দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে আত্মহত্যা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৪৫

বরগুনার তালতলীতে প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেওয়ায় স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুরা গ্রামের শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে মো. ইকবাল (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পূর্ব সুবেদখালী গ্রামের জাফর ফকিরের মেয়ে ডিভোর্সপ্রাপ্ত লামিয়া (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইকবাল ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ভোলা জেলার নাজমা আক্তারকে বিয়ে করেন। এরপর প্রথম স্ত্রী নাজমাকে বাড়িতে রেখে তিনি পুনরায় কর্মস্থলে চলে যান। ঢাকায় থাকাকালীন সময়েই ডিভোর্স প্রাপ্ত লামিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ৯ মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ইকবাল।
সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে লামিয়াকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসলে প্রথম স্ত্রী নাজমা তার দ্বিতীয় বিয়েকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন। এ পরিস্থিতিতে ইকবাল নিজ বাড়িতে উঠতে না পেরে লামিয়াকে নিয়ে বোনের শ্বশুর রহিম ডাক্তার এর তালতলী উপজেলার চাউলাপাড়া গ্রামের বাড়িতে উঠেন। সেখানেই একটি কক্ষে দুইজন আত্মহত্যা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত ইকবালের বাবা শুক্কুর হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় কাজ করতেন। সেখানে তিনি নিজের উদ্যোগে দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রী নাজমা আক্তারকে বিয়ে করেন এবং গত ৮-৯ মাস আগে লামিয়াকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রী লামিয়াকে নিয়ে বেয়াইয়ের বাড়িতে আসেন এবং সেখানেই আত্মহত্যা করেন।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অন্য কোনো বিষয় থাকলে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে জানা যাবে।
মিজানুর রহমান/এমবি