-676f6fb09a87c.jpg)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
শীতের হালকা রোদ, সোনালি মিষ্টি আলো আর প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য—এগুলো যেন এক সুন্দরের মেলবন্ধন, যা এখন চোখে পড়ছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাঠে মাঠে। উপজেলার সরিষার ক্ষেতগুলো এখন পুরোপুরি হলুদের চাদরে মোড়া। মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে থাকা এসব হলুদ ফুলের মাঝে প্রজাপতি, মৌমাছি ও অন্যান্য জীবজন্তুর কিচিরমিচির এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। হাসি ফুটিয়েছে কৃষকদের মুখে। ঘাম ঝরানো দিন শেষে এবার তারা ব্যাপক ফলনের আশা করছেন।
উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হবে, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা রোপণ করা হয়েছে।
উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের কৃষক আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, এক সপ্তাহ ধরে সরিষা ফুল ফুটতে শুরু করেছে। আরও অন্তত এক মাস ফুল থাকবে। তিন মাসের মধ্যেই সরিষা তোলা যায়। গত বছর সরিষার দাম ভালো ছিল। মনে হচ্ছে এ বছরেও দাম ভালোই হবে।
তিনি আরও বলেন, একবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যায় পাঁচ-সাত মণ। প্রতি মণ সরিষার বাজারমূল্য ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
তাড়াশের কৃষকরা বারি-১৪, বারি-১৭ ও স্থানীয় টরি-৭ জাতের সরিষার চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের মতে, এসব জাতের সরিষা দ্রুত ফলন দেয় এবং কৃষকরা ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হন। বিশেষ করে, বারি-১৪ জাতের সরিষা অধিক ফলনশীল হওয়ায় এর চাষ ব্যাপকভাবে চলছে।
এবার সরিষার চাষে শুধু খরচই কম নয়, এতে কৃষকদের জন্য একটি বড় সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরিষা তোলার পর ওই জমিতে বোরো ধানের চাষ করতে পারবেন তারা। এতে কৃষি জমির উর্বরতা বৃদ্ধিসহ বোরো ধানের ফলনও ভালো হয়।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ‘এ বছর সরিষার চাষে আশানুরূপ ফলন হবে। দেশের ভোজ্য তেলের বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরিষার চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি, এই বছর কৃষকরা ভালো লাভ অর্জন করবেন।’
ডিআর/এটিআর