Logo

সারাদেশ

কুমারখালীতে পেঁয়াজ চাষে সাড়া, সারের অস্বাভাবিক দামে বিপাকে চাষিরা

Icon

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৯

কুমারখালীতে পেঁয়াজ চাষে সাড়া, সারের অস্বাভাবিক দামে বিপাকে চাষিরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় বর্তমান মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এবার বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করছেন।

মৌসুমের শুরুতে যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫–৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেখানে গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১২০ থেকে ১৩৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ৪ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হবে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষও বাড়ছে। এ বছর ১৭৪ হেক্টর জমিতে নাসিক এন–৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ করছেন কৃষকরা।

পেঁয়াজ আবাদ বাড়লেও চাহিদামতো সার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তাদের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি দামে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ পাওয়া গেলেও খোলাবাজার বা সাব-ডিলারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

যদুবয়রা, পান্টি, বাগুলাট, নন্দলালপুর ও চাপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, দলবদ্ধভাবে কৃষকরা চারা রোপণে ব্যস্ত। এ সময় শ্রমিক সংকটও চোখে পড়েছে।

বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম এলাকার চাষি মিন্টু বলেন, ‘গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছি। কিন্তু ঠিকমতো সার দিতে পারছি না।’

একই গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলারের কাছে গেলে ১০–২০ কেজির বেশি সার দেয় না। সাব-ডিলারদের কাছে গেলে বস্তাপ্রতি ৫০০–৭০০ টাকা বেশি গুনতে হয়।’

বরইচারা গ্রামের আবু বাদশা জানান, ‘বিঘাপ্রতি ১০ কেজির বেশি সার পাওয়া যায় না। তাই বেশি দামে কিনে আনা ছাড়া উপায় নেই।’

খোলাবাজারে এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকায়, এক হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, আর এক হাজার টাকার এমওপি সার পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।

এ বিষয়ে বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গাফফার বলেন, ‘সরকার চাহিদামতো সার দিচ্ছে না। এ জন্য অনেক ডিলারই সমস্যায় পড়ছেন। তবে অতিরিক্ত দামে কেউ বিক্রি করছেন না। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রি করছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম জানান, সারের কোনো সংকট নেই এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ‘কৃষকরা যাতে সরকারি দামে সার পান, সে বিষয়ে প্রশাসন নজরদারি করছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কৃষকরা বলছেন, সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চান তারা, যাতে পেঁয়াজের ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।

উজ্জ্বল মাহমুদ/এআরএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর