নোয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য কার্যালয় ঘেরাও, নির্বাহী প্রকৌশলী ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে কয়েক কোটি টাকার মালামাল নামমাত্র মূল্যে গোপনে নিলাম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমন অভিযোগ তুলে একদল ঠিকাদার রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। এ সময় তারা নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা তার কক্ষে অবরুদ্ধ রাখেন।
ঘেরাও চলাকালে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কার্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ঠিকাদার ও তাদের সহযোগীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।
জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব (ওরফে আপেল) বলেন, গত দেড় মাস নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার সুযোগে গুদামে থাকা সাত-আট কোটি টাকার মালামাল নামমাত্র দামে পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে নিলাম দেওয়া হয়। আমরা এ তথ্য জানতে পেরে কার্যালয়ে আসি। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলামের কার্যাদেশ বাতিল করতে সম্মত হন।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দেওয়ার শর্তে গত কয়েক মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী তার কাছেসহ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় করেছেন। তার দাবি, ‘ঘুষ দিতে দিতে ঠিকাদাররা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বাধ্য হয়েই আমরা ঘেরাও করেছি।’
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গুদামের মালামাল নিলাম আমি দেইনি। এটি ঢাকা থেকে সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদাররা আমাকে অবরুদ্ধ করার পর তাদের দাবির প্রেক্ষিতে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’ ঠিকাদারদের কাছ থেকে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার বক্তব্য, ‘যারা কাজ পাননি, তারাই এসব অভিযোগ করছেন।’
আজাদুল ইসলাম দ্বীপ আজাদ/এআরএস

