Logo

সারাদেশ

মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মো. জাকির হোসেন মিয়াজী (৪৫) নামে কৃষক পিতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

বখাটে যুবকদের হামলায় আহত হয়ে ১৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে রোববার (৮ মার্চ) ভোরে তিনি মারা যান। জাকির তিন মেয়ে ও দুই ছেলেসহ ৫সন্তান নিয়ে কৃষিকাজ করে দিনাতিপাত করতেন।

স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের দ্বিতীয় মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী ও মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদার’সহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন বখাটে।

এ ঘটনায় জাকির হোসেন মিয়াজি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজারে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় জাকির হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে চাঁদপুর আদালতে জাকির মিয়াজির ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি মামলা দায়ের করেন।

নিহতের মেয়ে সাকিবা আক্তার বলেন, আমি স্কুলে যাওয়া আসার সময় প্রায়ই কয়েকজন ছেলে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি বাবাকে জানালে তিনি স্কুলে অভিযোগ করেন। এর জের ধরেই তারা আমার বাবাকে মারধর করে।

বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমার বাবাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন কৃষক মানুষ ছিল। মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট বাচ্চা আছে, এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবহিত করেনি।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আহত অবস্থায় জাকির হোসেন মিয়াজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাবে।

আলআমিন ভূঁইয়া/এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

হত্যা / খুন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর