বাস সংকটে ভোগান্তি বাড়ছে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের
হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪১
দুপুর ২টায় ক্লাস শেষ করে বাসে উঠতে গিয়ে ফিরে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষার্থী। এসময় ক্যাম্পাস থেকে শহরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া তিনটি বাসেই দরজা পর্যন্ত ঝুলে থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এই ভোগান্তি বর্তমানে হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। প্রায় প্রতিটি ট্রিপের বাসেই এই দৃশ্য নিয়মিত চোখে পড়ছে।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ১৪টি বাসের মধ্যে ৭টি বাসই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ভালো থাকা অবশিষ্ট ৭টি বাস এবং ৩টি বিআরটিসি বাস দিয়েই বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যাতায়াত করছেন। প্রায় সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর জন্য সবমিলিয়ে ১০টি বাস চলমান থাকায় বাসে নিয়মিত যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন তীব্র ভোগান্তিতে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে এগারো হাজার শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কারণে দিনাজপুর কলেজ মোড়, সুইহারী, চৌরঙ্গী মহারাজার মোড় এলাকার বিভিন্ন মেসে বসবাস করেন। কেউ কেউ নিজেদের বাসা থেকেই ক্লাস করে। শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসার জন্য বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই যাতায়াত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে। আবার অনেক শিক্ষার্থীই দিনাজপুর শহরে টিউশন করাতে যাওয়ার জন্য ক্যাম্পাসের বাসেই যাতায়াত করেন।
বর্তমানে বাসের সংখ্যা কম থাকায় বেশিরভাগ সময়ই অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ নিতে হচ্ছে সচল বাসগুলোকে। অনেক সময় সিট না পেয়ে শিক্ষার্থীদেরও দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাস শেষ হওয়ার সময়গুলোতে বাসে করে যাতায়াত করতে এবং বাসের সিট পেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বেশি। আগে ছাত্রীদের জন্য কয়েকটি ট্রিপে আলাদা বাস থাকলেও বর্তমানে সেটি নেই। এতে করে ছাত্রীদের ভোগান্তি যেন বেড়ে গেছে আরও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস ১৩টি। এর মধ্যে বর্তমানে ৯, ১০, ১১, ১৪, ১৮, ২০ ও ২১ নম্বর বাস নানারকম ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। সচল থাকা ৮, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭, ১৯ নম্বর এবং ৩টি বিআরটিসি দ্বিতল বাস দিয়েই যাতায়াত করছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে নিয়মিত শহরে যাতায়াত করছে এমন কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বাসে সিট পাওয়া বর্তমানে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ক্লাস শেষে আসলে বেশিরভাগ সময়ই বাসে সীট থাকেনা। তখন পরের ট্রিপের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বাসে সীট পেতে হলে অনেক ভীড় ঠেলে উঠতে হয়। ছেলেরা অনেক সময় সীট পেলেও মেয়েদের জন্য এভাবে সীট পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
নিয়মিত শহরে যাতায়াত করেন আনিকা তাবাসসুম নামের এমন এক নারী শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাসে সীট পাওয়া এখন খুবই কষ্টসাধ্য একটি বিষয়। বাস ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীদের ভীড় ঠেলে মেয়েদের পক্ষে সবসময় বাসে সীট পাওয়া যায়না আবার বাসে উঠতে পারলেও ভীড়ের মধ্যে দাড়িয়ে থাকা মেয়েদের জন খুবই কষ্টকর একটি বিষয়। তাই সীট না পেলে অটোতে করে চলে যাই।
শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, হাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন সাগর। তিনি বলেন, বাস সংকট খুবই প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। অনেকসময় দরজায় ঝুলে ঝুলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আমরা এ সপ্তাহেই এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। প্রশাসনের সাথে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে দুই একদিনের মধ্যেই আমরা আলোচনায় বসবো। শিক্ষার্থীদের এরকম ভোগান্তি মেনে নেওয়া যায় না।
বাস সংকটের বিষয়ে পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাসগুলোর বয়স ২০ বছরের মতো। বয়স যত বাড়ে মেইনটেন্যান্স খরচ বেড়ে যায়। বাস ঠিক করার জন্য অর্থ চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু ফাইল অনুমোদন হয়ে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় ফলে ঠিক সময়ে মেরামত করা সম্ভব হয়না।
এসময় বাসগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি শেড তৈরি করে দেওয়ার আর্জি জানান তিনি। বলেন, বাসস্ট্যান্ডে একটি শেড করে দিলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো। বাসগুলো খোলা জায়গায় থাকার কারণে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে গাড়িগুলোর জীবনকালও কমে যাচ্ছে। এজন্য গাড়িগুলোর জন্য শেড এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা খুবই দরকার। প্রশাসন নির্দিষ্ট একটা জায়গা করে দিলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো। আশা করছি প্রশাসন এ বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দেবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এসময় নতুন বাস কেনার বিষয়টিও ভেবে দেখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিকে/মান্নান

