পুরাতন বছর বিদায় এবং নতুন বছর যাতে সুখ-সমৃদ্ধিতে কাটে সে প্রত্যাশায় নদীতে ফুল দিয়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পূজা করে চাকমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী। রোববার সকাল থেকে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী নদীর পাড়ে শত শত নারী-পুরুষ কিশোর-কিশোরী এসেছিলেন হাতে সদ্য তোলা বুনোফুলের ডালা নিয়ে গঙ্গা দেবীর পূজা করতে। নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীকে পূজা শেষে প্রত্যেকে নিজ ঘরে গিয়ে ভগবান বৌদ্ধকে পূজা করে। পরবর্তীতে বাকি ফুল দিয়ে ঘর-বাড়ি আঙ্গিনাসহ আসবাবপত্র সাজাবেন।
আজকে চাকমা সম্প্রদায়ের ফুল বিজু উৎসব। আগামীকাল ১৩ তারিখ মূল বিজু উৎসব। মূল বিজুর দিনে পাহাড়ের ১শ এর অধিক সবজি দিয়ে পাজন (পাচন) তরকারি প্রস্তুত করবেন। এই পাজন দিয়ে আগত অতিথিদের আপ্যায়ন করবেন তারা। এতে তারা বিশ্বাস করেন, এই পাজন তরকারি খেলে তাদের শরীরের রোগ -শোক মুক্ত হয়।
পরেরদিন অর্থাৎ ১৪তারিখ তাদের নতুন বছর। সেই দিনে তারা শুধু আরাম -আয়েশ প্রথা রয়েছে জানান তারা।
এইভাবে তিনদিন চাকমারা প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু উৎসব এ নানান ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চাকমা জনগোষ্ঠী নতুন বছরকে বরণের আনুষ্ঠানিকতা চলে।
চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রাজীব চাকমা জানান, ভোরে সকাল সকাল ফুল তোলে নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর পূজা। এবং পরবর্তী ভগবান বৌদ্ধের পূজা আর ঘর সাজানোর এই রীতি-নীতি আমাদের পূর্বপুরুষরা করে এসেছেন। তাই আমরাও এই রীতিনীতি মেনে-ই আমাদের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। যাতে আমাদের আগামীর প্রজন্ম এই সংস্কৃতিকে লালন এবং ধারণ করে। আগামী তিন দিন পর্যন্ত পাড়ায় পাড়ায় গ্রামে গ্রামে আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার- দাবার খেলাধুলা, নাচ গান এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্যে দিয়ে নতুন বছরকে বরণে আমাদের আনুষ্ঠানিক চলবে।
প্রয়া চাকমা জানান, ভোর রাতে উঠে আমরা দলবেঁধে বনে গিয়ে ফুল সংগ্রহে বেরিয়ে পড়েছিলাম। এবং সকাল সকাল এসে আমাদের তোলা ফুল দিয়ে গঙ্গা মাকে পূজা করতে পেরে ভালো লাগছে। প্রতি বছর আমরা এই দিনটির আশায় থাকি। আজ হচ্ছে আমাদের ফুল বিজু। আগামীকাল আমাদের মূল বিজু। মূল বিষয় তো আমরা ১শ এর অধিক সবজি দিয়ে পাজন তৈরি করব। এবং পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সে রান্না করা সবজি সকলে মিলে খাবো।তারপরের দিন হচ্ছে আমাদের বছরের প্রথম দিন। প্রথম দিনে শুধু আমরা আরাম আয়ের ঘুরবো ফিরবো আর মুখরোচক খাবার খাবো। এভাবে তিন দিন আমরা নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বিজু উৎসব পালন করে থাকি।
চাকমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে যুগ যুগ ধরে এভাবে পূর্বপুরুষরা বিজু উৎসব পালন করে আসচ্ছেন। এই প্রথা, রীতিনীতি আমাদের ঐতিহ্য ও গর্বের। এ রীতিনীতি যা তা হারিয়ে না যায় আমরা বিজু উৎসব উপলক্ষে আমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান, খাবার, খেলাধুলার আয়োজন রাখেন বলে জানান চাকমা সুশীল সচেতন সমাজের নাগরিকরা।
বিকে/মান্নান

