চৌহালীতে আতা ফলের প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০৭
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় আতা ফল দেওয়ার কথা বলে এক শিশুকে ডেকে নিয়ে দুই কিশোর ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। এ ঘটনায় আপোষ-মীমাংসার জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা করছে।
পরবর্তীতে এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ এপ্রিল) ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ভয়ে শিশুর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে মুখ খুলতে পারেনি।
অভিযুক্তরা হলেন, রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিম পাড়ার গরু ব্যবসায়ী কালাম হোসেনের ছেলে কাউসার হোসেন (১০) ও ফজলুল হকের ছেলে রহিম রেজা (১২)।
ভিকটিমের পরিবার জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে আতা ফল দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে গোয়াল ঘরে ধর্ষণ করে কাউসার ও রহিম। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। বর্তমানে সে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশুর দাদি বলেন, আমার নাতনি যখন বাড়িতে আসে তখন তাকে অস্বাভাবিক লাগে। পরে জিজ্ঞাসা করলে আমার পুত্রবধূর কাছে কাউসার ও রহিম তার সঙ্গে কী করেছে সব খুলে বলে। পরে আমার নাতনির শরীরে রক্ত দেখে দ্রুত কাউসার ও রহিমদের মাকে জানাই।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা স্থানীয় মাহমুদুল হাসানকে (মামুদ আলী মেম্বার) জানালে তিনি দ্রুত চিকিৎসা নিতে বলেন এবং বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে চান।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়াসহ প্রভাব বিস্তার করছে একটি চক্র। এ কারণে তিনদিন পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধামাচাপার চেষ্টাকারীসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় মাহমুদুল হাসানকে (মামুদ আলী মেম্বার) বলেন, এটি জেনেছি, মিমাংসা করে নেবার পরামর্শ দিয়েছি।
চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

