দুই বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন উত্তোলন, পলাতক অধ্যক্ষ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫২
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রায় দুই বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শরওয়ার আলম, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত, মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত। হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও নেই। তবুও তার নামে নিয়মিতভাবে বেতন উত্তোলন হচ্ছে, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। ১৯৯৭ সালে একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে বিধি উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ২০১২ সালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর থেকে তিনি আর প্রতিষ্ঠানে যোগ দেননি, কিন্তু তার নামে বেতন বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে উপজেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বরখাস্তের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে এবং অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি পুনরায় বেতন গ্রহণ শুরু করেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন। তবে তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বেতন প্রদান, সম্পদ অপব্যবহারসহ আর্থিক অনিয়মের বিষয় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এতে অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যেও শৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং এতে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই।
অন্যদিকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি জানান, বেতন সংক্রান্ত প্রস্তাব ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রস্তুত করেন এবং তিনি কেবল তা অনুমোদন করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অধ্যক্ষের পুনরায় যোগদানের আবেদন পর্যালোচনায় রয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

