নেত্রকোনার মদনে দেওয়ান বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুর তারের সাথে লেগে সাড়ে ৫শ মণ ধানসহ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। দু’দিনেও উদ্ধার হয়নি নৌকা ও সাড়ে ৫শ মণ ধান, ঠিকাদারের প্রতি মাঝি ও কৃষকের ক্ষোভ প্রকাশ।
নৌকার মাঝি ও ধান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার মাঘান গ্রাম ও এর আশপাশের কয়েকজন কৃষক অতিকষ্ট করে তাদের সংগ্রহকৃত ধান বিক্রির জন্য নৌকাযোগে সোমবার ভোরে দেওয়ান বাজারে নিয়ে আসার জন্য রওনা করে। এ দিকে দেওয়ান বাজার সংলগ্ন মগড়া নদীর উপরে সেতু নির্মাণের কাজ চলছিলো। নদীর দুই তীরের সাথে ঠিকাদারের লোকজন তার বেঁধে রেখে নৌচলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে রেখেছিলো।
গতকাল সোমবার ছিলো সপ্তাহিক হাটের দিন। তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে নৌকা আসতে শুরু করলেও তার খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে ৯ টার দিকে মাঘান গ্রামের নৌকাটি এসে তারের সাথে ধাক্কা লেগে ধানসহ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে নৌকায় থাকা সাড়ে ৫শ মণ ধানও পানিতে তলিয়ে যায়। যার সরকারি হিসেব অনুযায়ী মূল্য দাঁড়ায় ৭ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা (প্রায়)। মাঝিদের বক্তব্য অনুযায়ী নৌকার মূল্য ১৬ লক্ষ টাকা। এছাড়াও নৌকার ভিতরের নগদ ৭০ হাজার টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ছিলো, যা নৌকার ভিতরেই থেকে যায়। এ ঘটনার বিচার চেয়ে নৌকার মালিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
নৌকার মাঝি রয়েল মিয়া (ইঞ্জিন চালক) জানান, ঠিকাদারের লোকজনের ভুলের কারণে সাড়ে ৫শ মণ ধানসহ ১৬ লাখ টাকার নৌকাটি আজ দু’দিন যাবৎ পানির নিচে। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সহযোগিতা পাইনি। নৌকার ভিতরে দুই দোকানদারের নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিলো এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ছিলো এগুলো বের করতে পারিনি, কোনো মতে নিজের জীবন নিয়ে নৌকার ভিতর থেকে বের হইছি। গতকাল ইউএনও স্যার এসে দেখে গেছে। নৌকা উদ্ধার করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
ধান মালিকদের একজন আনছু মিয়া জানান, নৌকাতে আমার ৩শ ৫০ মণ ধান ছিলো। সব পানির নিচে। এখন পর্যন্ত উদ্ধারের ব্যবস্থা হয়নি। সেতু নিমার্ণের লোকজনের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খোকন মিয়া জানান, নৌকা উত্তোলনের জন্য উদ্ধারকারীদের সাথে কথা হয়েছে। নৌকা উদ্ধারের পর উদ্ধার খরচের কিছু অংশ আমরা বহন করবো।
ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী জানান, নৌকা ডুবির বিষয়টি জেলায় জানানো হয়েছে। ঠিকাদারের লোকজনসহ দু’পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দিবো।

