Logo

সারাদেশ

মির্জাপুরে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকার গ্রেপ্তার শিক্ষক

Icon

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩২

মির্জাপুরে মাদরাসা ছাত্রকে   বলাৎকার গ্রেপ্তার শিক্ষক


টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ‘মারকাজুল উম্মাহ্ কওমি মাদরাসার ১০ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রকে টানা তিন মাস ধরে ধর্ষণের (বলাৎকার) চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ক্ষুব্ধ স্বজন ও উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেন এবং বহিরাগত ও জনতার ওপর ছাত্রদের দিয়ে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার  সকালে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল-আমিন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইলের জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ১০ বছর বয়সী ওই শিশুটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবাসিক শাখায় থাকতে শুরু করে। স্বজনদের অভিযোগ, গত প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন শিশুটিকে নানা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে নিয়মিত যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন।

ধারাবাহিক পাশবিক নির্যাতনে একপর্যায়ে শিশুটির পেটে তীব্র ব্যথা ও পায়খানার পথ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিশুটি অসুস্থতার কথা জানায় এবং তার মা তাকে ছুটিতে বাড়ি নিয়ে যান। বাড়িতে অবস্থানকালে শিশুটির নানাসহ স্বজনরা বাথরুমে রক্ত দেখতে পেয়ে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করান।

চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে প্রায় ১১ দিন আগে শিশুটিকে পুনরায় মাদরাসায় রেখে আসেন তার মা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মাদরাসায় ফেরামাত্র ওই শিক্ষক আবারও তার ওপর নির্যাতন চালান। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শিশুটি ফোন করে তার মাকে আকুতি জানিয়ে বলে, মা আমার কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও।

শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী শিশুর মা, নানা ও মামা বিচারের দাবিতে মাদরাসায় যান। খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয় শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে ধরে গণপিটুনি দেয়।

এদিকে, ঘটনার বিচার না করে উল্টো প্রধান ফটক আটকে লাঠি হাতে ছোট ছোট ছাত্রদের জনতার ওপর লেলিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তবে প্রিন্সিপালের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেকে লাঞ্ছিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই গেট বন্ধ করা হয়েছিল।

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে গ্রেপ্তার এবং প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান অভিযুক্ত শিক্ষক ও মাদরাসার প্রিন্সিপালকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন