Logo

সারাদেশ

মণিরামপুরে আলিম মাদ্রাসায় দুনীর্তি ও স্বজনপ্রীতি

Icon

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫২

মণিরামপুরে আলিম মাদ্রাসায়  দুনীর্তি ও স্বজনপ্রীতি


যশোরের মণিরামপুরে ধলিগাতি সুন্দলপুর আলিম মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর দুই কর্মচারী নিয়োগে চরম দুনীতি-অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল ওদুদ সাজানো নিয়োগ বোর্ড করে তার নিজের ছেলেকে অফিস সহায়ক ও ভাইপোকে পরি”ছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া গত ২৯ আগস্ট এ নিয়োগ বোর্ড

সম্পন্ন করা হলেও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি ও সভাপতির বৈধ অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হবার পর মাদ্রাসার অভিভাবক-শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে দু’সপ্তাহে ধরে উপজেলার অফিসপাড়া, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিক মহলের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

জানাযায়, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ধলিগাতি সুন্দলপুর আলিম মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর দুইটি পদে অধ্যক্ষ আব্দুল ওদুদের ছেলে মুতাছিম বিল্লাহকে অফিস সহায়ক ও ভাইপো হাবিবুল্লাহকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে চলতি বছরের গত ২৮ এপ্রিল গোঁপনে মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। কিš‘ স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই নিয়োগ বোর্ডটি বাতিল হয়ে যায়। যার কারনে পুনরায় গত ২৯ এপ্রিল ওই দুই পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যার প্রার্থীদের আবেদন জমার

শেষ তারিখ ছিল গত ১৪ মে অফিস চলাকালিন। এতে অফিস সহায়ক পদে পাঁচজন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ অধ্যক্ষের ছেলে ও ভাইপোকে পূর্বের

নিয়োগ দেওয়া বোর্ড সংক্রান্ত দুনীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের দায় এড়াতে গত ১৬ মে পদত্যাগ করেন। সভাপতি পদত্যাগের পর অধ্যক্ষ তড়িঘরি করে আবুল কালাম

আজাদের আপন ভাই কমিটির প্রতিষ্ঠা সদস্য আব্দুল রশিদকে গভনিংবডির রেজুলেশন করে নতুন সভাপতি মনোনীত করে গত মাসে বোর্ডে আবেদন করেন।

কিš‘ মজার বিষয় হলো নিয়োগ বোর্ড করাকালিন শিক্ষাবোর্ড নতুন সভাপতির অনুমোদিত কোন চুড়ান্ত চিঠি দেওয়া হয়নি। এছাড়াও গত ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নবায়নের জন্য পুনরায় বোর্ডে আবেদন করা হলে গত ৩১ আগস্ট বাতিল বলে গণ্য হয় বলে জানা গেছে। বোর্ড কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নেই, সভাপতি অনুমোদন নেই অথচ নিয়োগ বোর্ড হচ্ছে। যা নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে গত ২৯ আগস্টের সাজানো নিয়োগ বোর্ডের বৈধতা নিয়ে। সচতুর অধ্যক্ষ আব্দুল ওদুদ কৌশল করে সহকারি উপাধ্যক্ষ আবুল বাসারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব ঘাড়ে চাপিয়ে তারই ছেলে মুতাছিম বিল্লাকে অফিস সহাযক ও ভাইপো হাবিবুল্লাহকে পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট মুতাছিম বিল্লাহ ও হাবিবুল্লাকে প্রতিষ্ঠানে যোগদান ও ৩১ আগস্ট এমপিও জন্য অনলাইনে আবেদনও করা হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে স্থানীয়দের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এমপিও বিষয়টি আটকে রেখেছেন।

তবে অধ্যক্ষ ওদুদ শুরু থেকে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। আর এ বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক-শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে সাজানো নিয়োগ বোর্ডে স্বজনপ্রীতি করে চাকুরি দেওয়ার কথা অস্বীকার করে নিয়োগকালিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল বাসার জানান, আমাকে শুধু নিয়োগ বোর্ডে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে রাখা হয়েছে। তার বাইরে আমি কিছু জানি না। তবে অধ্যক্ষ আব্দুল ওদুদ নিজের ছেলে ও ভাইপোকে নিয়োগ দেওয়ার কথা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ তো আর আমি দেয়নি, বোর্ডের সদস্যরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। এখানে কোন অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। একটু সমস্যা হ”িছল, সেটা সকলের সাথে কথা বলে

ঠিক হয়ে গেছে।

প্রস্তাবকৃত গভর্নিংবডির সভাপতি আব্দুল রশিদ জানান, কমিটি আছে কিনা, আমি জানি না। তবে নিয়োগ বোর্ডের দিন অধ্যক্ষের দাওয়াতে আমি মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকলেও নিয়োগ বোর্ডের কোন কাজে আমাকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

সবকিছু একাই করতে দেখা গেছে ডিজির প্রতিনিধিকে। নিয়োগ বোর্ডের পর বোর্ডে এমপিও’র অনুমতিপত্র পাঠানো সম্পর্কে কিছুই জানেন না উল্লেখ করে জানান, তার ছেলে ও ভাইপোকে চাকুরি দেয়ার বিষয়টি সত্য, তার বাইরে আমি

কিছু জানি না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোজাফ্ধসঢ়;ফর হোসেন জানান, অধ্যক্ষের নিজের ছেলে ও ভাইপোকে এভাবে নিয়োগ দেওয়াটা ভালো মনে হয়নি। তাদের এমপিও’র জন্য আমার দপ্তরে আবেদন করেছেন। কিš‘ ইউএনও স্যার বিষয়টি ছাড়তে না বলেছেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেছেন।

তদন্ত না করে কোন অব¯’াতেই এটা ছাড়া সম্ভব হবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আইনআনুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত না

করে বিষয়টি ছাড় করা যাবে না। এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডে থাকা ডিজির প্রতিনিধি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষন) চাঁদ মিয়া বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ড সঠিক হয়েছে। তারপরেও কারও কোন অভিযোগ থাকলে অফিসে এসে অভিযোগ করতে পারেন। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানার বাইরে, যদি এ ধরনের নেক্কারজনক কাজ কেউ করে থাকেন সেটা নিন্দানীয়। কেউ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিকে/মানআনানি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন