বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গোলাগুলি, যুবক নিহত

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:১৭
-6789f60fb3d8f.jpg)
নরসিংদীতে ডিস ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল নেতার গুলিতে মনজুর মিয়া (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতী দলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন (৪৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার শেখেরচর-বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মনজুর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ছিলেন। তিনি চাকরি করার পাশাপাশি বখতিয়ারের সঙ্গে পার্ট-টাইম ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কাজ করতেন। আহত বখতিয়ার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ইফতেখার আলম বাবলার ছোট ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ‘এলাকায় ডিস, ইন্টারনেট ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেহেরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন ও সভাপতি ইফতেখার আলম বাবলা গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে তিনদিন আগে ইফতেখারের ছোট ভাই জ্যোতিকে মারধর করে আকরাম ও তার সহযোগীরা। এরই জেরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিতে ইফতেখার গ্রুপের ডিস ব্যবসার কর্মী মনজুরে মৃত্যু হয় এবং তাঁতীদল নেতা বখতিয়ার আহত হন।’
আহত বখতিয়ার হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে শেখেরচর-বাবুরহাট বাজারে এক গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করছিল মনজুর। আমি বাজারে কাপড় কিনতে এসেছিলাম। এ সময় মনজুর আমাকে দেখে বলেন, আপনিও আসছেন নাকি। ওই সময় আকরামসহ পাঁচ-ছয়জন লোক আসে। আমাকে দেখেই আকরাম বলে ওঠে, পাইছিরে— এই বলে গুলি ছুঁড়তে থাকলে আমার বাম হাতে এবং মনজুরের পেটে গুলি লাগে। পরে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়। আমাকে ও মনজুরকে প্রথমে মাধবদীর প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনজুর মারা যান।’
মনজুরের পরিবার জানিয়েছে, তিনি কয়েক মাস আগে চাকরি ছেড়ে সিগারেট কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারে তার ছোট একটি ছেলে রয়েছে। তিনি আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে মাঝে মাঝে বখতিয়ারের সঙ্গে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতেন।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা তদন্ত করছি এবং সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
সুমন রায়/এটিআর