ফাগুনের আগুন লেগেছে তাহিরপুরের শিমুল বাগানে

মো. আব্দুল হালিম
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৮:০৫
-67aff661dafdb.png)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফাগুনের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে তাহিরপুরের শিমুল বাগান। দূর থেকে দেখলে মনে হয় লাল গালিচায় মোড়ানো এক বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছেন বাগানটির নয়নাভিরাম এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীতীরে মেঘালয় পাহাড়ের কোলঘেঁষে গড়ে উঠেছে এশিয়ার বৃহত্তম এই শিমুল বাগান। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রায় ১০০ বিঘার এই বাগানে ২০০২ সালে বৃক্ষপ্রেমী ও তৎকালীন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন তিন হাজার শিমুল গাছ রোপণ করেন। সময়ের পরিক্রমায় বাগানটি এখন দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই শিমুল ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো বাগান। লাল পাঁপড়িতে ঢাকা গাছের সারি দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই লালিমা। কেউ সেলফি তুলতে ব্যস্ত, আবার কেউ নিচে পড়ে থাকা শিমুল ফুল কুড়িয়ে মালা বানিয়ে নিচ্ছেন।
শিমুল বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মৌ বলেন, ‘দুই মাস হলো বিয়ে হয়েছে। এতদিন শুধু ছবিতে শিমুল বাগান দেখেছি। এবার বাস্তবে এসে অভিভূত হয়েছি। রক্তলাল শিমুল ফুল যেন এক স্বপ্নরাজ্য!’
তরুণী লাবণী আক্তার জানান, ‘ফাগুনের সৌন্দর্য উপভোগ করতেই বাগানে আসা। এত মানুষের মধ্যে শিমুল বাগানের সৌন্দর্য দেখতে পারাটা অনেক আনন্দের। ফুলগুলো আগুনের মতো লাল হয়ে আছে। এত সুন্দর দৃশ্য বাগানে না আসলে কখনো উপভোগ করা হতো না ‘
শ্রীমঙ্গল থেকে আসা পর্যটক পাভেল জানান, ‘অনেক জায়গায় ঘুরেছি, তবে শিমুল বাগানের সৌন্দর্য অনন্য। একদিকে পাহাড় অন্যদিকে নদী, মাঝখানে লাল শিমুলের সমারোহ—চোখ ফেরানোই দায়!’
বাগানের ভেতরে স্থানীয় বাসিন্দারা শিমুল ফুলের মালা গেঁথে ১০-২০ টাকা মূল্যে বিক্রি করে অনেকে তাদের জীবিকাও নির্বাহ করেন। বাগানটিতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা টিকিট কাটতে হয়। ভেতরে রয়েছে ক্যান্টিন, যেখানে কম দামে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া পর্যটকদের জন্য ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থাও রয়েছে, যা ৫০-১০০ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায়।
বাগানের বর্তমান মালিক, প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের ছেলে রাখাব উদ্দিন জানান, ‘আমার বাবা শিমুল বাগান তৈরি করে গেছেন, যা আজ সুনামগঞ্জের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের নজরদারি রয়েছে।’
এটিআর/