লৌহজংয়ে কৃষি খাতে অনিয়মের অভিযোগ

টঙ্গীবাড়ী (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:২৮

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে কৃষি খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ দৌলা, জেলার উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত ও লৌহজং উপজেলা উপসহকারী (উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা) আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, রাজস্ব খাতে সহায়তা প্রকল্পে প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ জন কৃষক ও কৃষাণীকে ৫ কেজি করে ধান বীজ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেওয়া হয়নি। বরং উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের দিয়ে মাস্টাররোল স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে কৃষি অফিস সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে।
এছাড়া হলদিয়া ইউনিয়নের প্রদর্শনীতে ৫০ একর জায়গায় ধান উৎপাদনের কথা থাকলেও চাষ হয়েছে মাত্র ২৫ একরে। বাকি জায়গার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ তিন কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। পাটনার প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুই একর জমিতে বীজ উৎপাদনের জন্য চাষিদের মাত্র ৩ বস্তা সার ও ২ বস্তা জৈব সার সরবরাহ করা হয়। আর বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ।
লৌহজং উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের নাগের হাট গ্রামের কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, নতুন জাতের ধান ‘১০৩’ প্রদর্শনী প্রকল্পের জন্য ৫ একর জমির বরাদ্দ থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ২ একরের জন্য সার ও বীজ। তার মধ্যে ২ কেজি ধান ও ৫ বস্তা সার দেওয়া হয়েছে। বাকি উপকরণ তাকে নিজ খরচে কিনতে হয়েছে। একই অভিযোগ তুলেছেন কৃষক তোবারক, নুরুল ইসলাম ও রিপন।
সবজি চাষি ইব্রাহিম খান জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষের জন্য প্রয়োজন ছিল ১ কেজি বীজ। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০০ গ্রাম। ২২ শতাংশ জমিতে সবজি চাষের জন্য ৯ প্যাকেট বীজের প্রয়োজন হলেও তাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২ প্যাকেট। কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্পের অধিকাংশ উপকরণ বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে লৌহজং কৃষি অফিসের উপসহকারী (উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা) আব্দুর রহিম বলেন, এ সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে, যা পরে জানানো হবে।
এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান-উদ দৌলা ও জেলা উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্তকে মুঠো ফোনে বহু বার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
নাজমুল ইসলাম পিন্টু/এমবি