চোখের পানিতে ফরিদপুর-২ আসন ছাড়লেন শহীদুল

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:০৫

নিজে কেঁদে ও সমর্থকদের কাঁদিয়ে ফরিদপুর–২ আসনের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ওরফে বাবুল। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরকান্দার কোনাগ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় শহীদুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নগরকান্দা-সালথা নিয়ে গঠিত সংসদীয় এলাকা ফরিদপুর-২ ছেড়ে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসনের জন্য কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে শহীদুলকে ঘিরে তার সমর্থকেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে শহীদুল নিজেও আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানা গেছে, ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, এ নিয়ে শহীদুলের সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) শামা ওবায়েদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। দুজনের বাড়িই নগরকান্দা।
এলাকায় শক্তি প্রদর্শনের জেরে গত ২১ আগস্ট দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ওই রাতেই কেন্দ্রীয় বিএনপি শহীদুল ও শামা দুজনকে দলীয় প্রাথমিক পদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়। তবে গত ১০ নভেম্বর উভয়ের ক্ষেত্রে এ স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।
এলাকার কর্মী-সমর্থকদের বিদায় জানিয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে তার সহকর্মীদের চোখের পানি সবচেয়ে মূল্যবান। আজ আমার জন্য কত মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন, কাঁদছেন। রাজনীতি করেছি বলে এত আবেগ ভালোবাসা পেয়েছি।
তিনি বলেন, এ নগরকান্দায় এত যুদ্ধ, এত সংগ্রাম, আপনারা জানেন এখানে আরও একজন মানুষ আছেন। তিনিও অনেক বড় নেতা। আমার পদ স্থগিত হয়েছিল, আমি কাউকে কিছু বলিনি। শুধু আমার নেতা তারেক রহমানকে বলেছি, ‘আপনি যা ভালো বোঝেন তাই করেন।’ তিনি তাই করেছেন।
শহীদুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমান আমাকে ফরিদপুর-৪ আসনের জন্য কাজ করার কথা বলেছেন। বলেছেন, ‘তুমি ওখানে কাজ কর। তোমার জন্য যা যা করতে হয়, তা আমি করব।’ আমি আমার নেতার কথা ফেলতে পারি নাই। সম্পর্ক হয় আদর্শের। এ সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কের চাইতে অনেক মূল্যবান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শহীদুল বলেন, নগরকান্দার বন্ধুদের বলি, দলের এ সিদ্ধান্ত আমি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। দলের বাইরে যাব না। কপালে যা আছে, আল্লাহ যা লিখে দিয়েছেন, নেতা যা ভালো বুঝবেন তাই করবেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি লিয়াকত হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।
ডিআর/এমবি