Logo

অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করা হচ্ছে : প্রেস সচিব

Icon

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১৪

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করা হচ্ছে : প্রেস সচিব

বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত শুল্ক যৌক্তিকীকরণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি বিভিন্ন বিকল্প চিহ্নিত করছে।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন প্রেস সেক্রেটারি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে আসছি। আমাদের চলমান প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে শুল্কসংক্রান্ত এই বিষয়টির সমাধানে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে আমদানি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির সংবাদে বলা হয়, আমদানি শুল্ক আরোপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসছে। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল।

হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে দেওয়া এক ভাষণে বুধবার (২ এপ্রিল) ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে আমাদের দেশ লুটপাট, শোষণ এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তা বন্ধ করার সময় এসেছে।

তার ঘোষিত শুল্ক হার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের পণ্য আমদানির ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এছাড়া, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, তিনি অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্যই এই শুল্ক বসিয়েছেন এবং তা তাদের আমদানি শুল্কের অর্ধেক মাত্র। আজ ৩ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক নীতিমালা কার্যকর করা হবে। 

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এই টেরিফ বাড়ানোতে আমাদের মতো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকারক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। নতুন টেরিফে আমাদের খরচ বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ হয়েছে।  অন্যদের এমন হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো চেষ্টা করছে। এতে বিশ্বের অন্যান্য দেশও ক্ষতির মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের দেশে বিনিয়োগ হয়ত এতে বাড়াবে। এখন আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেরিফ কমানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।  যাতে আমাদের প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমাদের টেরিফ কিছুতে বেশি না হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

ট্রাম্পের ঘোষণায় ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করে ট্রাম্প বক্তব্যের শুরুতে বলেন, কয়েক দশক ধরে আমাদের দেশকে দূরের ও কাছের বন্ধু ও শত্রু নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশ লুট করেছে, লুণ্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে এবং ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, বিদেশি মেথররা আমাদের এক সময়ের সুন্দর আমেরিকান স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর বাইরে লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ ও মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এএইচএস/এমএইচএস

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর