Logo

অর্থনীতি

এবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১০

এবার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের দাম প্রতি লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলেও লিটারে চার টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৫ টাকা থেকে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। যেসব পণ্যে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে উৎস পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, রমজান মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ওই সময় থেকে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, মূল্য সমন্বয় না হলে তারা ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়বেন এবং পুঁজি সংকটে পড়বেন।

সরকার বিষয়টি একাধিকবার যাচাই-বাছাই করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত খরচ বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে, মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত পুরো মূল্য বৃদ্ধি গ্রহণ করা হয়নি। ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে সীমিত পরিসরে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোক্তারা এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে নেবেন। একই সঙ্গে এই সমন্বয়ের ফলে আমদানিকারক ও রিফাইনারদের লোকসানের চাপ কিছুটা কমবে এবং বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ভোজ্যতেল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিফাইনার ও আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ এপ্রিল থেকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি এর কয়েক দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালেও সরকারের সায় মেলেনি।

একই ঘটনা ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। তখনও তারা দাম সমন্বয়ের তথ্য দিলে অন্তর্বর্তী সরকার সেটি অবগত নয় যুক্তিতে বাড়াতে দেয়নি।

এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিপরীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্য জরিমানাও করে। এবার এসে সরকারই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল।

এর আগে গত বছর ১৪ অক্টোবর প্রতি লিটারে ছয় টাকা এবং খোলা তেল আট টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন