Logo

অর্থনীতি

দুই দশকেও পূর্ণতা পায়নি নোয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী

Icon

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:০৬

দুই দশকেও পূর্ণতা পায়নি নোয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী

নোয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী

নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বেকারত্ব দূরীকরণ আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন নিয়ে ২০০৩ সালে ১৫ একর জমিতে যাত্রা শুরু করেছিল নোয়াখালী বিসিক শিল্পনগরী। ২০০৬ সালে ঘটা করে এর উদ্বোধন করা হলেও গত দুই দশকেও সেখানে গড়ে ওঠেনি ন্যূনতম শিল্পবান্ধব পরিবেশ।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই শিল্পনগরী। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিল্প মালিকরা।

নোয়াখালী সদরের সোনাপুরে অবস্থিত এই শিল্পনগরীটি এখন আর আগের মতো কর্মচঞ্চল নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনের বেলা এলাকাটি জনশূন্য থাকলেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মাদকসেবীদের দখলে থাকে। ১০৮টি প্লটের মধ্যে অধিকাংশতেই এখন ঝুলছে তালা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলজট তৈরি হয়। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর সীমানা প্রাচীর না থাকায় বিসিকের ভেতর দিয়ে অবাধে বিচরণ করছে বহিরাগতরা। উদ্যোক্তাদের প্রধান অভিযোগ হলো গ্যাস সংযোগ না থাকা। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে চড়া দামে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 একজন প্লাস্টিক কারখানা মালিক জানান, "গ্যাস না থাকার কারণে বড় কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে উঠছে না। এছাড়া বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ সমস্যার কারণে মেশিনারিজ নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত।"

বিসিকে কোনো সীমানা দেয়াল বা নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় চুরি ও ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি রাবার কারখানার কর্মকর্তা আক্ষেপ করে জানান, গত আড়াই মাসে তাদের কারখানায় তিনবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। পানির মোটর, ড্রিল মেশিন থেকে শুরু করে মূল্যবান লোহার প্লেট ও বিদ্যুতের ক্যাবল পর্যন্ত কেটে নিয়ে গেছে চোরেরা। নিরাপত্তার অভাবে পাহারাদাররাও চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এলাকায় কোনো সড়ক বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়।

তথ্যমতে, শুরুতে ১০৮টি প্লটের মধ্যে ৯৭টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক উদ্যোক্তা প্লট নিয়ে কেবল সীমানা প্রাচীর বা টিনশেড ঘর তুলে দখল করে রেখেছেন, কোনো উৎপাদনে যাননি। বিসিক কর্তৃপক্ষ এসব নিষ্ক্রিয় প্লট বাতিল করতে গেলে আইনি জটিলতায় পড়ে। বর্তমানে ১০টি প্লট নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, যার ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে এগুলো বরাদ্দ দেওয়া যাচ্ছে না।

সমস্যার কথা স্বীকার করে বিসিক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুল্লা হাসান বলেন, "প্রধান সমস্যা হলো গ্যাস। আমরা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং আমাদের প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছি। এছাড়া সীমানা প্রাচীর, প্রধান ফটক ও রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়া প্লটগুলো দ্রুত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উদ্ধার করে নতুন উদ্যোক্তাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।"

উদ্যোক্তারা মনে করেন, নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হয়। বিসিকে যদি একটি বড় কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন করা যায় এবং গ্যাস সংকট মেটানো যায়, তবে এটি কৃষিভিত্তিক শিল্পের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই শিল্পনগরী সরকারের জন্য কেবল শ্বেতহস্তীতে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন