ছবি: সংগৃহীত
‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ সম্ভাব্য শিরোনামে জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উত্থান করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বিশাল বাজেটে রাজস্ব আহরণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাজেট উত্থাপনের পরও ১৯ দিন বিভিন্ন ধারা সংযোজন-বিয়োজনের সুযোগ থাকবে। মাসের শেষ দিনে ৩০ জুন এই বাজেট জাতীয় সংসদে পাশ হবে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
কয়েক বছর ধরে দেশে জাতীয় বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। বড় বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে বড়সড়। অথচ প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় অনেক পিছিয়ে থাকছে। প্রতিবারের মতো আগামী বাজেটেও শুল্ক-কর আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক-কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কিছু ক্ষেত্রে বাড়তে পারে। এতে বিভিন্ন পণ্যে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে যা দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অথচ সরকার মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ সাড়ে সাত শতাংশের মধ্যে রাখতে চায়। তবে, সাম্প্রতিক ধারা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তার মতে, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, আর বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং নীতি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অবশ্যই ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই হবে না, ব্যয়ের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে।
বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থের জোগান কোথা থেকে: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সম্ভাব্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। তথ্য বলছে, আসন্ন নতুন বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। আর এই বিশাল বাজেটের বাড়তি ব্যয় মেটাতে বড় ভরসা রাখা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের ওপর। আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৮০ শতাংশ আদায়ের মূল দায়িত্ব থাকবে এনবিআরের কাঁধে। নতুন বাজেটে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত বছরগুলোতে এনবিআরের গড় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কখনই ১৫-১৬ শতাংশের বেশি অতিক্রম করতে পারেনি। সেখানে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ রূপকথা তুল্য। বিগত ২৫ বছরের (২০০১ থেকে ২০২৫) ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এনবিআর কেবল একবারই ২০১১ সালে সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছিল।
বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরের জন্য ব্যবহারযোগ্য নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
কিছু খাতে কর ছাড় ও কিছু খাতে বৃদ্ধি: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। পরের দুই বছর করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা থাকবেÑ এমন ঘোষণাও থাকতে পারে।
আবার ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোক্তাদের জন্য নানা খাতে করছাড়ও রাখা হতে পারে। তবে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতার ওপর অগ্রিম কর বসতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক-কর কমবে। মূল্যস্তর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। এ ছাড়া নিয়ম-নীতিগুলো ব্যবসাবান্ধব করতে ‘ডি-রেগুলেশন’ নিয়ে বাজেট বক্তৃতায় একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। সেখানে ব্যবসার লাইসেন্স ও নবায়নের মেয়াদ পাঁচ বছর করা হতে পারে।
আগামী অর্থবছর থেকে বছরজুড়েই রিটার্ন দেওয়া যাবে, বাজেটে এমন ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। তাতে বছরের শুরুতে রিটার্ন দিলে থাকবে করছাড়ের সুবিধা। আর দেরিতে রিটার্ন দিলে তার জন্য ৫ হাজার টাকা বা প্রদেয় করের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপের বিধান থাকতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত রাখার ঘোষণা আসতে পারে আগামী বাজেটে। বর্তমানে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। এ ছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের আয়ও করমুক্ত রাখার ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিদেশ থেকে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের আয়কে প্রবাসী আয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে বাজেটে। সেটি হলে প্রবাসী আয়ের বিপরীতে প্রণোদনাও পাবেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা। এ ছাড়া স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত রাখা হবে।
রপ্তানির প্রণোদনার অর্থের ওপর বর্তমানে বিভিন্ন হারে উৎসে কর কাটা হয়। আগামী অর্থবছরে ১০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নেওয়া ঋণের সুদের বিপরীতে ২০ শতাংশ উৎসে কর কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। এত দিন এই উৎসে কর মওকুফ ছিল। আগামী অর্থবছর থেকে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের সময় উৎসে কর বসবে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির ক্ষেত্রে সার্বিক শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব থাকতে পারে বাজেটে। বর্তমানে ইভির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ভার ৯৩ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভিতে ৬৪ শতাংশ এবং ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত দামের ইভির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ শুল্ক-কর হারের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী।
বাজটে ব্যবসায়ীদের জন্য যা থাকছে: কৃষি ও ভোগ্যপণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বর্তমানে করদাতাদের পাঁচ শতাংশ, দুই শতাংশ কিংবা এক শতাংশ হারে উৎসে কর পরিশোধ করতে হয়। নতুন বাজেটে বিদ্যমান এসব করহার কমিয়ে দশমিক পাঁচ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হতে পারে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেল।
খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বা ডিস্ট্রিবিউশন পর্যায়ে দশমিক ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম আয়কর আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি হাজারে দুই টাকা কর দিতে হবে খুচরা ব্যবসায়ীদের। এ কর বছর শেষে করদাতার প্রদেয় করের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ¦ালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ খাতে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করা হতে পরে। এ ছাড়া দেশীয় কোম্পানির জন্য ভোজ্যতেল উৎপাদনে কর অব্যাহতি সুবিধা মিলবে প্রথম ১০ বছর।
দাম বাড়তে ও কমতে পারে যেসব পণ্যের: দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতেই এই করছাড় দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক্স খাতকে সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এই খাতে সবচেয়ে বেশি ছাড় দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া, আগামী অর্থবছর থেকে এই করছাড় বা কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এই নীতির প্রভাবে দেশে উৎপাদিত এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওয়াশিং মেশিন ও সব ধরনের গৃহস্থালি (হাউসহোল্ড) পণ্য, সৌরবিদ্যুৎ, ইলেকট্রিক গাড়ি, ই-বাইক এবং দেশে তৈরি ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর ও মোবাইল সেটের দাম কমতে পারে।
তবে, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে আমদানি করা কাজু বাদাম, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মনিটর, প্রিন্টার, সিগারেট পেপার, বিদেশি মদ, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, দামি মাছ, সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ ইত্যাদির ওপর শুল্ক বাড়ায় এগুলোর দাম বাড়তে পারে।
এ ছাড়া আমদানি ও স্থানীয়Ñ দুই পর্যায়ে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, অগ্রিম কর, ভ্যাট, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক কমানোর ফলে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে আগামী অর্থবছর। আবার কিছু পণ্যের দাম বাড়তেও পারে। যেমন ক্যাশলেস লেনদেনে উৎসাহিত করতে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পিওএসের দাম কমতে পারে।
এসি ও ফ্রিজের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করা হতে পারে। এতে এসি-ফ্রিজের দামও কমতে পারে। আবার মোবাইল ফোন উৎপাদনে ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। এতে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজেটের উদ্যোগের ফলে কমতে পারে বিদেশি লিপস্টিকের দামও। প্রতি কেজি লিপস্টিক আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ৪০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩০ ডলার করার উদ্যোগ থাকতে পারে বাজেটে। এ ছাড়া প্রতি কেজি লোশন, ফেস ক্রিম, ফেসওয়াশ আমদানিতে শুল্কায়ন মূল্য ১০ ডলার থেকে কমিয়ে সাত ডলার নির্ধারণের কথাও ভাবছেন অর্থমন্ত্রী। এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজারে। যার সুফল পাবেন ভোক্তারা।
বাজেটের করসংক্রান্ত নানা পরিবর্তনের কারণে কিছু পণ্যের দাম বাড়তেও পারে এবার। যেমন সিগারেট, বিড়িসহ তামাকপণ্যের মূল্যস্তর ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে সিগারেটের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পাঙ্গাশ মাছের ফিলেট আমদানিতে বসতে পারে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক। এতে দামি হোটেল- রেস্তোরাঁয় এ মাছের দাম বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

