রায়গঞ্জে ১০৭টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, কার্যক্রম ব্যাহত
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৪
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৭টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রশাসনিক কাজে ধীরগতির পাশাপাশি পাঠদানের গুণগত মানও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবসরে যাওয়া, সময়মতো পদোন্নতি না হওয়া এবং নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম—উভয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ প্রদীপ বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা দ্বৈত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ক্লাসের সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা পাঠে আগ্রহ হারাচ্ছে। অনেক স্কুলে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রামপাংগাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তামান্না শারমীন নাজমা বলেন, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ভারপ্রাপ্ত স্যারেরা দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনিক কাজ ও ক্লাস—দুটোই সামলাচ্ছেন। অফিস নথি ও পাঠদান একসঙ্গে সামলানো আসলেই কঠিন। একজন প্রধান শিক্ষক থাকলে স্কুলের সবকিছুতে সমন্বয় থাকে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন। ।
স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদরুজ্জোহা বলেন, প্রাথমিক স্তর হলো শিশুর ভিত্তি। প্রধান শিক্ষক পদটি শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি শিক্ষার মান রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। এই পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কাঠামো ধসে যায়।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষক সংকট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষা কার্যক্রমে আবারও গতি ফিরে আসবে।

