প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের ৪র্থ শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা ১ম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে মূল বইয়ের অনুশীলনীর সকল সমাধান দেওয়া হয়েছে।
মূল ভাব
মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনি শুধু আমাদেরকেই সৃষ্টি করেননি, সমগ্র বিশ্বজগৎও সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের লালন-পালনসহ জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রদান করেন। তার অনেক গুণবাচক নাম রয়েছে। এ নামগুলোর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর পরিচয় লাভ করি। তাছাড়া আমাদের প্রতি তার অনুগ্রহ সম্পর্কেও জানতে পারি।
আল্লাহ (মা) নামটি মহান আল্লাহর জাতি বা সত্তাগত নাম। আমরা সাধারণত এ নামেই তাকে সম্বোধন করে থাকি। এছাড়াও তার আরো অনেক নাম রয়েছে। সেগুলো সিফাতি বা গুণবাচক নাম। এ নামগুলোকে ‘আল-আসমাউল হুসনা’ (الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى) বলা হয়। এর অর্থ ‘সুন্দরতম নামসমূহ’। আমাদের প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কে বলেছেন- “আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, একটি কম একশটি; যে ব্যক্তি সেগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সহিহ বুখারি)
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔️) দাও:
(ক) কোনটি মহান আল্লাহর জাতি (সত্তাগত) নাম?
১. আল-ক্বাদির
২. আল-বাসিত
৩. আল-হালিম
৪. আল্লাহ√প্রশ্ন ব্যাংক
(খ) মহান আল্লাহর সিফাতি (গুণবাচক) নাম কয়টি?
১. ৯৯টি√
২. ১০০টি
৩. ১০১টি
৪. ১০২টি
(গ) সালাতের আহকাম কোনটি?
১. প্রত্যেক রাকাতে রুকু করা
২. প্রত্যেক রাকাতে সিজদা করা
৩. নির্ধারিত ওয়াক্তে সালাত আদায় করা√
৪. শেষ বৈঠক করা
(ঘ) কোনটি ‘মাদ্দ’ এর হরফ?
১. আলিফ√
২. ক্বাফ
৩. হা
৪. আইন
(ঙ) কীভাবে আল্লাহর গুণ ‘আর-রাহমান’ দ্বারা গুণান্বিত হওয়া যায়?
১. সৃষ্টির পরিচর্যার মাধ্যমে
২. অপরাধীকে ক্ষমা করার মাধ্যমে
৩. সহনশীলতা অবলম্বনের মাধ্যমে
৪. সকলের প্রতি দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে√
(চ) কোন ইবাদত অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা সমাজে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখতে পারি?
১. পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা
৩. মেহমান আপ্যায়ন করা
২. জীবজগতের প্রতি দয়া করা
৪. জাকাত প্রদান করা√
(ছ) কী বলে আমরা সালাত শুরু করব?
১. আলহামদুলিল্লাহ
২. সুবহানাল্লাহ
৩. আল্লাহ আকবার√
৪. বিসমিল্লাহ
(জ) কোনো হরফকে একসঙ্গে দুই বার উচ্চারণ করার জন্য আমরা কোনটি ব্যবহার করব?
১. জযম
২. তাশদীদ√
৩. তানবীন
৪. সাকিন
(ঝ) মহান আল্লাহর গুণ নিজ জীবনে অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা কী?
১. আল্লাহর গুণে প্রভাবিত হওয়া
২. আল্লাহর গুণ সম্পর্কে জানা
৩. গুণবাচক নামে আল্লাহকে ডাকা
৪. আখিরাতে সফলতা লাভ করা√
(ঞ) সহিহভাবে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শেখার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ কোনটি?
১. শ্রুতিমধুরতা
২. সালাত আদায়ের জন্য অত্যাবশ্যক√
৩. অর্থ ঠিক রাখা
৪. শব্দের উচ্চারণ ঠিক রাখা
২. শূণ্যস্থান পূরণ:
ক) ‘আল-আসমাউল হুসনা’ অর্থ হলো সুন্দরতম নামসমূহ।
খ) ইমানে মুফাসসাল হলো ইমানের বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ।
গ) কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করাও ইবাদত।
ঘ) ‘যের’ এর পরে জযমযুক্ত ‘ইয়া’ থাকলে এক আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
ঙ) সালাতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা ফরজ।
৩. বাম পাশের সাথে ডান পাশ মিলকরণ:
বাম পাশ:
ক. মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহে
খ. পবিত্র কোরআন শুধু পড়তে পারলে হবে না
গ. মহান আল্লাহ সহনশীলতা পছন্দ করেন
ঘ. ইবাদতের মাধ্যমে আমরা
ঙ. তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম
ডান পাশ:
তাই আমরা সহনশীল হব।
যে নিজে কোরআন শেখে এবং অপরকে তা শেখায়।
ইমানকে সুদৃঢ় করতে পারি।
তা সহিহও হতে হবে।
সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবার্তিতার অনুশীলন করতে পারি।
তার পরিচয় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
সমাধান:
ক. মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহে → তার পরিচয় খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
খ. পবিত্র কোরআন শুধু পড়তে পারলে হবে না → তা সহিহও হতে হবে।
গ. মহান আল্লাহ সহনশীলতা পছন্দ করেন → তাই আমরা সহনশীল হব।
ঘ. ইবাদতের মাধ্যমে আমরা → সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবার্তিতার অনুশীলন করতে পারি।
ঙ. তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম → যে নিজে কোরআন শেখে এবং অপরকে তা শেখায়।
৪. শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়
ক) মহান আল্লাহর গুণ দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ভালো কাজ করতে পারি। (শুদ্ধ)
খ) ইমানে মুফাসসাল হলো ইমানের বিষয়গুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ। (অশুদ্ধ)
গ) কোনো হরফের নিচে খাড়া জের থাকলে তিন আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। (শুদ্ধ)
ঘ) জাকাত আদায় করে শ্রেণি-বৈষম্য দূর করা যায়। (শুদ্ধ)
ঙ) পবিত্র কোরআন শুদ্ধভাবে পড়তে নির্দিষ্ট নিয়ম মানার প্রয়োজন হয় না। (অশুদ্ধ)

