Logo

শিক্ষা

প্রাথমিকে বরিশালে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, পাঠদান ব্যাহত

Icon

বরিশাল প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১১:২৯

প্রাথমিকে বরিশালে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য, পাঠদান ব্যাহত

শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। বিভাগটিতে বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে শুধু সহকারী ও প্রধান শিক্ষকের পদই খালি প্রায় পাঁচ হাজার। তীব্র এই সংকটের ফলে একদিকে যেমন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ হাজার ২৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থী পাঠগ্রহণ করছে। এ বিদ্যালয়গুলো মনিটরিংয়ে কাজ করে ৬টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিস। এ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিস মিলিয়ে কর্মকর্তা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মোট অনুমোদিত পদসংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৫৩টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৫০৪ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৪৯টি।

সবচেয়ে বেশি সংকট শিক্ষক পদে। পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৩৭ হাজার ৯৭৮ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৬৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৯২টি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে শিক্ষকের মোট পদের মধ্যে প্রায় ১২.৯ শতাংশ শূন্য রয়েছে।

পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুমোদিত ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৮ জন; শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। অর্থাৎ পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মোট পদের ৪০ শতাংশ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে ৬ হাজার ২৪১ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৯৯৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ২২৫টি। প্রধান শিক্ষক পদের প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষক ৩১ হাজার ৭০৭ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৯ হাজার ৫২ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২৬৫৫টি। অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক পদের প্রায় ৮.৪ শতাংশ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭ জন সহকারী শিক্ষক ‘চলতি দায়িত্ব’ হিসাবে প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্বপালন করছেন।

জেলা পর্যায়ে ৬টি এবং উপজেলা পর্যায়ের ৪২টি শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট ১ হাজার ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫৩ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৫৫২টি। অর্থাৎ মোট পদের প্রায় ৫৪.৯ শতাংশ শূন্য রয়েছে। চাহিদার তুলনায় নগণ্য পদ মঞ্জুর করা হলেও অফিস সহায়ক ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট পদেও বড় ঘাটতি রয়েছে।

এর মধ্যে উপজেলা ও থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২৫১টি পদের মধ্যে ১৩৫টি শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ১টি শূন্য রয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ১২টি পদের মধ্যে ৪টি খালি। সহকারী মনিটরিং অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। সহকারী ইনস্ট্রাক্টর (রিসোর্স সেন্টার) পদে ৪১টির মধ্যে ৩৯টি পদ খালি; যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রেও সংকট তীব্র। সাধারণ ইনস্ট্রাক্টর পদের ৭০টির মধ্যে ৩৪টি শূন্য। বিজ্ঞান ও চারু-কারু ইনস্ট্রাক্টর পদের প্রতিটিতে ৫টির সবগুলোই শূন্য। কৃষি ও শারীরিক শিক্ষা ইনস্ট্রাক্টর পদের ৫টির মধ্যে ৪টি করে শূন্য রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ইনস্ট্রাক্টরের ৫টির মধ্যে ৩টি পদ খালি। ফলে প্রায় সব শাখাতেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অফিস সহায়ক ও প্রশাসনিক সহায়তামূলক পদেও একই চিত্র। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের ১১৮টির মধ্যে ৮৯টি শূন্য। অফিস সহায়ক পদের ১১১টির মধ্যে ৯৭টি খালি। ক্যাশিয়ারের ৭টি পদের সবগুলোই শূন্য রয়েছে। হিসাব সহকারীর ৪১টির মধ্যে ২৬টি এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ৪২টির মধ্যে ২২টি পদ খালি। ড্রাইভারের ৮টির মধ্যে ৭টি পদ শূন্য। এছাড়া মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৬টি করে পদের সবগুলোই শূন্য রয়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা-শিক্ষক বলেন, জনবল সংকটের কারণে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে; দাপ্তরিক কাজেও এর প্রভাব পড়ছে। তাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান অবনতি হতে পারে। বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শূন্যপদের প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাজেও গতি কমেছে। দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, জনবল সংকটে কাজের গতিশীলতা কমে যায়। শূন্যপদগুলো পূরণে কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। নিয়োগসংক্রান্ত মামলা থাকায় শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন