Logo

বিনোদন

রাহুলের মৃত্যুর নেপথ্যে কী? ময়নাতদন্তে উঠল নতুন প্রশ্ন

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ২০:১৭

রাহুলের মৃত্যুর নেপথ্যে কী? ময়নাতদন্তে উঠল নতুন প্রশ্ন

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দুই বাংলা। ওড়িশার তালসারি সমুদ্রসৈকতে ভোলে বাবা পার কারেগা ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে গত রোববার পানিতে ডুবে প্রাণ হারান ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা। তবে সোমবার প্রকাশ্যে আসা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে রহস্য ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাহুলের ফুসফুসের অবস্থা ছিল অস্বাভাবিক। তার ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ফুসফুস ও শ্বাসনালীর গভীরে বালি ও নোনা জলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, অল্প সময় পানিতে থাকলে ফুসফুসে এত গভীর স্তরে বালি প্রবেশ করা কঠিন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দীর্ঘ সময়সম্ভবত এক ঘণ্টারও বেশি সময় পানির নিচে নিমজ্জিত ছিলেন। এছাড়া মৃত্যুর আগে শরীরে অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিশ্চিতে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের ভাষ্যমতে, রোববার বিকেলে শুটিংয়ের একটি শট ছিল হাঁটু সমান পানিতে। সেখানে রাহুল ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র একে অপরের দিকে পানি ছুড়ে খেলা করছিলেন। একপর্যায়ে রাহুল শ্বেতার হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগোতে থাকলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত পানি গলা পর্যন্ত উঠে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে তিনি তলিয়ে যান। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত দড়ি ফেলে তাকে উদ্ধার করে সৈকতে নিয়ে আসেন। তখনো তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন। তবে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের মধ্যে কিছুটা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসকদের এক ঘণ্টা পানিতে থাকার আশঙ্কার বিপরীতে ইউনিটের দাবি, তারা দ্রুতই তাকে উদ্ধার করেছেন। এই ধোঁয়াশা কাটাতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও রূপাঞ্জনা মিত্র। পরিচালক পারমিতা মুন্সী প্রশ্ন তুলেছেন, সমুদ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শুটিং করার সময় কেন কোনো পেশাদার ডুবুরি বা স্পিডবোট রাখা হয়নি। রাহুলের গাড়িচালকও জানিয়েছেন, তিনি বারবার বারণ করা সত্ত্বেও রাহুল সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর চিরদিনই তুমি যে আমার ছবি দিয়ে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান রাহুল। সেই ছবির নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গেই বাস্তব জীবনে ঘর বেঁধেছিলেন তিনি। তাদের সহজ নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্প্রতি তারা আবারও এক হয়েছিলেন। শুধু অভিনেতা নন, লেখক ও স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবেও রাহুলের আলাদা পরিচিতি ছিল। নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমা মুক্তির আগেই তার এই চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না সহকর্মীরা।

বর্তমানে অভিনেতার দেহ ময়নাতদন্ত শেষে প্রিয়াঙ্কা সরকারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। টালিউডের এই কৃষ্ণ-পল্লবী জুটি দর্শকদের মনে আজীবন অমলিন থাকলেও, রাহুলের অকাল মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জোরালো তদন্তের দাবি উঠেছে শিল্পী মহলে।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন