ঘোস্ট কিলার
জাপানিজ অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার সিনেমা বরাবরই দর্শকদের জন্য নতুন কিছু নিয়ে আসে। সেই ধারায় এবার যুক্ত হয়েছে নির্মাতা কেনসুকে সোনোমুরার নতুন চলচ্চিত্র ‘ঘোস্ট কিলার’ । চমৎকার ফাইট কোরিওগ্রাফি, অলৌকিক ঘটনা আর হাসির সংমিশ্রণে সিনেমাটি ইতোমধ্যে সমালোচকদের নজর কেড়েছে।
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে ফুমিয়া (আকারি
তাকাইশি) নামের এক সাধারণ কলেজ ছাত্রীকে কেন্দ্র করে। কর্মক্ষেত্রে খারাপ দিন পার করে
ফেরার পথে কুড়িয়ে পাওয়া একটি বুলেটের খোসা বদলে দেয় তার জীবন। সেই বুলেটের মাধ্যমেই
ফুমিয়ার শরীরে ভর করে কুডো (মাসানোরি মিমোতো) নামের এক মৃত ভাড়াটে খুনির আত্মা। নিজের
খুনের প্রতিশোধ নিতে কুডো ফুমিয়ার শরীরকে ব্যবহার করে শত্রুদের মোকাবিলা শুরু করে।
ফুমিয়া নিজেও জানত না তার ভেতরে কতটা চাপা ক্ষোভ জমা ছিল, যা কুডোর আত্মার সংস্পর্শে
এসে কারাতে আর গান-ফাইটের এক বিধ্বংসী রূপ নেয়।
পরিচালক কেনসুকে সোনোমুরা এবং অভিনেত্রী
আকারি তাকাইশি এর আগে জনপ্রিয় ‘বেবি অ্যাসাসিনস’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে
একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই ‘ঘোস্ট কিলার’-এর অ্যাকশন দৃশ্যগুলোকে
প্রাণবন্ত করে তুলেছে। আকারি তাকাইশি এই সিনেমায় দুই ধরনের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়
করেছেন। একদিকে তিনি একজন অসহায় ভীতু ছাত্রী, অন্যদিকে শরীরে আত্মা ভর করলে তিনি হয়ে
ওঠেন এক নির্দয় খুনি। তার এই বৈচিত্র্যময় অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে মৃত
খুনি কুডোর চরিত্রে মাসানোরি মিমোতো ছিলেন বেশ আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল।
সিনেমাটি মূলত মারপিট এবং কমেডি ঘরানার
হলেও এর চিত্রনাট্যে নারীদের সম্মান ও অধিকারের বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে। নারীদের
ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনকারী পুরুষদের শায়েস্তা করার বেশ কিছু দৃশ্য সিনেমাটিতে
বীরত্বগাথা হিসেবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে ফুমিয়ার পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে গতানুগতিক
আবেদনময়ী রূপ এড়িয়ে সাধারণ ট্র্যাকসুট ও হুডি ব্যবহার করা হয়েছে, যা চরিত্রটিকে আরও
বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। সব মিলিয়ে কেনসুকে সোনোমুরার এই নতুন নির্মাণ কেবল মারপিট
নয়, বরং অলৌকিক আবহের মধ্য দিয়ে মানুষের চারিত্রিক উত্তরণ এবং প্রতিশোধের এক বিনোদনমূলক
আখ্যান।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

