অসম যুদ্ধে ইরানের কৌশল কি ভিয়েতনামের মতো কাজে দেবে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ২০:৪২
আলি খামেনির ছবি হাতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবার সমর্থনে মিছিল করেন সমর্থকেরা। সোমবার তেহরানে/ ছবি: এএফপি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর পেছনে কোন বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনকে উৎসাহিত করেছে? হতে পারে তাদের জয়ের আত্মবিশ্বাস। কারণ, কাগজে–কলমে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে সব সময় অজেয় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইতিহাস বলছে, ‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অসম যুদ্ধের মাঠে দুর্বল প্রতিপক্ষ অপ্রচলিত পদ্ধতি অবলম্বন করলে অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটতে পারে।
উপনিবেশবিরোধী লড়াইগুলোতে এমন নজির দেখা গেছে। যেমন ১৯৪৬ সালের ইন্দোচিন যুদ্ধে জয় নিশ্চিত মনে করে অংশ নিয়েছিল ফ্রান্স। তারা ভিয়েতনামের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। কিন্তু কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন ভিয়েত মিন বাহিনী কার্যকর গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৪ সালে দিয়েন বিয়েন ফু যুদ্ধে ফ্রান্স পরাজিত হয়। ইতিহাসবিদেরা মনে করেন, ফ্রান্সের হারের কারণ ছিল অহংকার।
১৯৫৪ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত চলা আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধে গেরিলা কৌশলের সামনে ফ্রান্স আবারও ব্যর্থ হয়। ঘনবসতিপূর্ণ শহরের আশপাশের এলাকায় আলজেরীয় যোদ্ধাদের প্রতিহামলার কৌশল, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ড যুদ্ধে প্রভাব তৈরি করেছিল।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সক্ষমতা সীমিত করতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ভিয়েত কং বাহিনী ঘন জঙ্গল এলাকা ব্যবহার করত। যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলনামূলক দুর্বল শক্তি শেষ পর্যন্ত ১৯৭৫ সালে জয়ী হয়েছিল।
২০০১ সালে আফগানিস্তানেও মার্কিন সামরিক বাহিনী তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়। কিন্তু আইইডি, আত্মঘাতী হামলা, ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা ঝটিকা আক্রমণ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যার কৌশল কাজে লাগিয়ে তালেবানরা আমেরিকানদের তুলনায় বেশি সময় যুদ্ধে টিকে থাকার সক্ষমতা দেখিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হয়।
ইরাকের পরিস্থিতিও খুব বেশি ব্যতিক্রম ছিল না। ২০০৩ সালে আগ্রাসনের মাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের পর পুরো সংঘাত ভিন্ন মাত্রার এক যুদ্ধে রূপ নেয়। মার্কিন কনভয়ের ওপর আইইডি হামলা, আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ, গুপ্তহত্যা এবং অপহরণের এক অন্তহীন চক্রে আটকে যায় দেশটি।
ইউক্রেনের অসম যুদ্ধও সমররীতিকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। ২০২২ সাল থেকে সস্তা ও সাধারণ বাণিজ্যিক ড্রোন ব্যবহার করে তারা রাশিয়ার বিশাল বাহিনীকে এখনো মোকাবিলা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানও একই কৌশল ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বজায় রেখেছে। ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে তাদের সহযোগিতা করছে ‘প্রক্সি’ বাহিনী। যেমন ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান যৌথ হামলার সময়ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সস্তা কিন্তু কার্যকর ‘শাহেদ–১৩৬ কামিকাজে’ ড্রোন ছুড়ছে। এবারও দুর্বল প্রতিপক্ষ—ইরান—যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী আক্রমণকারীর কাছে নতি স্বীকার করতে অস্বীকার করে, তবে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী হতে পারে।
এএস/

