ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে নামছে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ২০:২৮
‘নো কিংস’ আন্দোলন
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বৃহত্তম গণবিক্ষোভের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ শনিবার ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাকে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের ১৬টি দেশে কয়েক মিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাব, অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সাথে চলমান ‘অবৈধ’ যুদ্ধের প্রতিবাদে এই বিশাল কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।
আয়োজক সংগঠন ‘ইনডিপিভিবল’ এবং ‘৫০৫০১’ মুভমেন্টের মতে,
এটি তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত ‘নো কিংস’ প্রতিবাদ। গত
অক্টোবরে আয়োজিত দ্বিতীয় বিক্ষোভে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। এবারের বিক্ষোভে
সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্ষোভের প্রধান কারণগুলো হলো- শীতকালীন সময়ে
মিনেসোটায় ব্যাপক হারে অভিবাসন দপ্তরের অভিযানের প্রতিবাদ। ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং এর
ফলে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ভোটাধিকার রক্ষা এবং অভিবাসন কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের
প্রতিবাদ।
এবারের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু বা 'ফ্ল্যাগশিপ'
ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিনেসোটার টুইন সিটিজে (মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল)। সেখানে বরার্টু
আইস এজেন্টদের হাতে দুইজন অধিকারকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ চরমে। সেন্ট পলের র্যালিতে
অংশ নেবেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, অভিনেত্রী জেন ফন্ডা এবং কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী
ব্রুস স্প্রিংস্টিন।
আয়োজকরা এই আন্দোলনকে ‘অহিংস’ হিসেবে ঘোষণা
করেছেন। তবে গত জুন মাসে সল্টলেক সিটিতে একজন বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় এবার নিরাপত্তা
নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিকে,
আইস এজেন্টরা বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত থাকতে পারে—এমন খবরে সাধারণ
মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের
আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এই বিক্ষোভের
সমালোচনা না করলেও তার প্রশাসন আইস-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর কড়াকড়ি অব্যাহত রেখেছে।
সম্প্রতি টেক্সাসে নয়জন বিক্ষোভকারীকে ‘অ্যান্টিফা সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে দোষী
সাব্যস্ত করা হয়েছে। আয়োজক লেহ গ্রিনবার্গ বলেন, “এই বিক্ষোভের
পরের দিনও হয়তো ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকবেন, কিন্তু এই প্রতিবাদ স্থানীয় পর্যায়ে মানুষকে
সংগঠিত করার একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”

