Logo

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার পথ সহজ হচ্ছে না

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ২০:৫৮

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার পথ সহজ হচ্ছে না

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের পর থেকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সাতাশ দিন ধরে চলা যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৯৩৭ জনের প্রাণ গেছে বলে দেশটির তরফ থেকে জানানো হয়েছে। এক মাসে যুদ্ধে একের পর এক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ঘরবাড়ি হারিয়ে পথে বসেছে হাজারো পরিবার। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী ও ২১২ জন শিশু রয়েছে বলে ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলী জাফারিয়ান বলেন। 

এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮০০ এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার নারী ও ১ হাজার ৬২১টি শিশু রয়েছে। জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

এই প্রেক্ষাপটে বর্তমানে চারটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেহরানের কাছে একটি মার্কিন প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার জন্য নিজেকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে। ইরানের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সম্ভাব্য আলোচনা পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। যদিও তেহরান এ ধরনের আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

তবে এ যুদ্ধ শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় প্রথমবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইয়েমেনের হুতিরা। এদিকে, হিজবুল্লাহও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে হামলার নির্দিষ্ট স্থানের নাম উল্লেখ করা না হলেও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দাবি করা হয়েছে। তাতে হিজবুল্লাহ জানায়, সীমান্ত থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার (৩ দশমিক ৭ মাইল) দূরে দক্ষিণ লেবাননের তাইবেহ শহরে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে তারা।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যখন একদিকে শান্তি আলোচনার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই পাল্টাপাল্টি রণকৌশলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতি। তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা বললেও অঞ্চলটিতে নতুন করে আরও ১০ হাজার স্থলসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থানকে বিশ্লেষকরা ইরানের ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক’ চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

ইরানে ৯২ হাজারেরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত: মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

সংস্থাটি বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৯২ হাজার ৬৬২ বেসামরিক ভবনের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৫৬টি আবাসিক ভবন, ২০ হাজার ৩৯৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ২৯০টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ৬০০টি স্কুল রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধে ইরানি রেড ক্রিসেন্টেরও ১৭টি কেন্দ্র, ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত তিনটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে টাস্কফোর্স গড়ছে জাতিসংঘ: জাতিসংঘ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্য প্রবাহ সচল রাখার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট ও মানবিক সংকট আরও বাড়াতে পারে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, ‘এই সংঘাত কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি জানান, আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন।

স্টিফেন দুজারিক বলেন, টাস্কফোর্সটি ইউক্রেনের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ এবং গাজার ইউএন২৭২০ মেকানিজমসহ জাতিসংঘের অন্যান্য প্রকল্প থেকে অনুপ্রেরণা নেবে।

দুজারিক বলেন, ‘এই উদ্যোগটি কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা দেখতে টাস্কফোর্সটি এখন সব প্রাসঙ্গিক সদস্যদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট সব সদস্যরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন জানাবে। বিশেষ করে সেসব মানুষের স্বার্থে, যাঁরা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

হিজবুল্লাহর ৪ শতাধিক যোদ্ধা নিহত: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার বদলা নিতে মার্চের ২ তারিখে লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রথম দফা রকেট ছোড়ার পর শুরু হওয়া নতুন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির চার শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

নিজেদের হতাহতের সংখ্যা নিয়ে হিজবুল্লাহ’র হিসাবের সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে।

লেবাননের ইসরায়েলের সম্প্রসারিত আকাশ হামলা ও স্থল অভিযানে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর মোট কতজন নিহত হয়েছে সূত্র দুটির তথ্যে সে বিষয়ক ধারণা মিলল। এর আগে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আলাদা আলাদাভাবে কিছু যোদ্ধার মৃত্যুর খবর জানালেও সব মিলিয়ে তাদের কতজনের প্রাণ গেছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি।

২০২৩-২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহ প্রতিদিন তাদের হতাহতের হিসাব জানাতো। ওই যুদ্ধে তাদের ৫ হাজারের মতো যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছিল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চার সপ্তাহ ধরে চলা সর্বশেষ যুদ্ধে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীটির অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছিল। এ নিহতদের মধ্যে চৌকস রাদওয়ান বাহিনীর কয়েকশ সদস্যও আছে বলে তারা জানিয়েছিল।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, আকাশ পথে ইসরায়েলের হামলা ও স্থল অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৪২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১২২টি শিশু, ৮৩ জন নারী ও ৪২ চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। এর মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক সে বিষয়ে কিছু বলেনি তারা।

যুদ্ধ থামাতে একজোট হচ্ছে প্রভাবশালী ৪ দেশ: ইরান যুদ্ধ থামাতে একসঙ্গে বসতে যাচ্ছে চার মুসলিম দেশ। আজ রোববার পাকিস্তানের উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিসর ও পাকিস্তান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার পাকিস্তানের উদ্যোগে দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই দিনের এই বৈঠকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উপায়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, এই বৈঠকের লক্ষ্য হবে এমন একটি কার্যকর প্রক্রিয়া তৈরি করা, যা সংঘাত প্রশমনে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে, চার দেশ কীভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করছে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে এসব নিয়েই আলোচনা হবে।

যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় প্রথমবার ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইয়েমেনের হুতিরা। তেহরানঘনিষ্ঠ এ শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি শনিবার জানায়, তারা দখলকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

ইসরায়েল এর আগে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর দিয়েছিল, বলছে আল জাজিরা।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার কয়েকদিনের মধ্যেই লেবাননের হিজবুল্লাহ তেহরানের সমর্থনে ইসরায়েল লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব প্রতিবেশী দেশটিতে নতুন স্থল অভিযানে নামে।

ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক-সামরিক নানা স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার তাদের সঙ্গে হুতিরাও যুক্ত হল।

শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে সশস্ত্র এ গোষ্ঠীটি বলেছে, লেবানন, ইরান, ইরাক ও ফিলিস্তিনে বেসামরিক হত্যা এবং নানান বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় তারা ইসরায়েলে এ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ঘোষিত সব লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, প্রতিরোধ অক্ষের সবার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

হুমকিতে সুয়েজ খাল: হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে ইয়েমেনের হুতিরা সক্রিয় হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পথ সুয়েজ খাল বন্ধের শঙ্কা দেখছেন দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহামাদ এলমাসরি।

আল জাজিরাকে তিনি বলেছেন, ‘গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি, হুতিদের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। তারা যদি বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে লোহিত সাগর এবং শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ও সুয়েজ খাল—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথই বাধাগ্রস্ত হবে। এগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নৌপথ। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব হবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।’

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বছর দুয়েক আগে হুতিরা লোহিত সাগরে পশ্চিমা দেশের জাহাজে হামলা চালায়, সেখানে চারটি জাহাজ ডুবেছে।  শতকোটি ডলারের বেশি অস্ত্রশস্ত্র খরচ হয়েছে লোহিত সাগরকে নিরাপদ করতে, তারপরও জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ওই জলপথ এড়িয়ে চলে।

আল জাজিরা লিখেছে, ইসরায়েলে হুতিদের হামলাকে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে দেখতে পারে। কয়েক সপ্তাহ আগে আল জাজিরাকে দেওয়া এক বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ বন্ধ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন দেশটির এক কর্মকর্তা। যদিও নির্দিষ্ট করে কোনো পথের কথা বলা হয়নি।

ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানোর পর এখন দৃষ্টি যাচ্ছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দিকে—সম্ভবত বাব আল-মানদেব প্রণালি, যা লোহিত সাগরে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান নৌপথ।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের: ইরানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ফি আদায় করা হবে। তার ভাষায়, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। অন্যান্য করিডরে যেমন পণ্য পরিবহনের সময় শুল্ক দিতে হয়, হরমুজ প্রণালিও তেমন একটি করিডর। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও ট্যাংকারগুলোর শুল্ক দেওয়া স্বাভাবিক।

তবে আইনি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগেই গত দুই সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি টোল ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা লয়েডস লিস্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করে। এর পরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও এলএনজি বহনকারী মার্কিন ও ইসরাইলি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরানের আইআরজিসি। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি রেশনিং এবং শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রণালিটি উপসাগরীয় অধিকাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির একমাত্র পথ হওয়ায় বিভিন্ন দেশ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করেছে।

গত রোববার ইরানের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজেরদি জানান, কিছু জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যুদ্ধের খরচ রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ফি নিতে হচ্ছে।

ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে নিহত ১১১০: ইসরায়েলের হামলায় হাজারেরও বেশি প্রাণহানির পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দায়ের করছে লেবানন।

দেশটি বলছে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’। এগুলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং জনগণের অধিকারের জন্য হুমকি।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেন, আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবিলম্বে নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দায়েরের অনুরোধ করছি।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে ১ গাহার ১১০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বলছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে  বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬২ জনে পৌঁছেছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭৩। 

দ্রুত কমছে মার্কিন অস্ত্র, উদ্বেগে পেন্টাগন: চলমান ইরান সংঘাতে ব্যাপক হারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, গত চার সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। তবে বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হওয়ায় এর বৈশ্বিক সরবরাহ সীমিত।

২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে তারা ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি-যা সামরিক পরিভাষায় গোলাবারুদ শেষ হওয়ার অবস্থা বোঝায়।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন