এক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি কেবল ইসরাইল অভিমুখে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ছুড়েই ক্ষান্ত হবে না কি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির ভাগ্য।
যদি ইরান হরমুজ প্রণালি এবং হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে আসবে। এ যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ভুগছে উপসাগরীয় দেশগুলোও। আর এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আলোচনার আওয়াজ উঠলেও তিন দেশের কেউই হামলা বন্ধ করেনি। তবে যুদ্ধ থামানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের জবাব একই কায়দায় দিচ্ছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ।
এদিকে, জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা দাবি করেছেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশ্য পদত্যাগ নোটিশে তিনি এ দাবি করেন। এত বর্তমান বিশ্ব এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগুচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ আলোচনায় তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার দিকে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
এদিকে, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এক অভিযানে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এবার যৌথ হামলায় জ্বলছে ইসরায়েল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের জবাব একই কায়দায় দিচ্ছে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সংঘাতের ৩১তম দিনেও তারা প্রতিশোধমূলক যৌথ হামলা চালিয়ে কাঁপিয়ে দিয়েছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ডটিকে।এতে তেল আবিব ও হাইফায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পর হাইফার একটি তেল শোধনাগারে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডও ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসরাইলের হাইফা শহরের বাজান তেল শোধনাগারে হিজবুল্লাহ ও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশাল অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়া দেখা গেছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে যে, তারা হাইফার নৌঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, তাদের বাহিনী ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার নৌঘাঁটিতে ‘উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যারেজ’ (একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর শহরটির তেল শোধনাগারে আগুন লেগে যায়। তবে এ অগ্নিকাণ্ড সরাসরি আঘাতের কারণে নাকি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের পতনের ফলে ঘটেছে, তা স্পষ্ট ছিল না।
হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, ইসরাইলের দখলদার বাহিনীর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেইত লিফ-এ হামলায় ইসরাইলি বাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে কয়জন ছিল, আর তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী তা জানা সম্ভব হয়নি।
সংগঠনটি জানায়, তারা বেইত লিফ শহরের একটি বাড়ির ভেতরে থাকা ইসরাইলি বাহিনীর ওপর গাইডেড মিসাইল (নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র) দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে।
ইসলামাবাদে চার দেশের বৈঠক: গতকাল রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ আলোচনায় তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈঠকটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার দিকে নেওয়ার জন্য সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালিকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আঞ্চলিকভাবে শক্তিধর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও তারা কথা বলেছেন।
বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ৯০ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এটি ছিল পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ফোনালাপ।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক যে হুট করে আয়োজন করা হয়েছে, তা নয়। এটি একটি প্রক্রিয়ার ফল। চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের রিয়াদে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর এক সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়েছিল। সে প্রক্রিয়াই এখন চারদেশীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রূপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান।
শান্তিরক্ষী নিহতে জাতিসংঘের নিন্দা: লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে জাতিসংঘের একজন ইন্দোনেশিয়ান শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘর্ষের সময় এ ঘটনা ঘটে।
লেবাননে অবস্থিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষী মিশন (ইউএনআইএফআইএল) জানায়, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের আদচিট আল-কুশাইর গ্রামের কাছে বিস্ফোরণে তাদের একজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার এটি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাগুলোর মধ্য অন্যতম। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে ও জাতিসংঘের কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ সীমান্তবর্তী হামলার জেরে লেবাননে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর থেকেই ওই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খারগ দ্বীপ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের: ব্যবসার জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎ স্থাপনা, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এ হুমকি দেন। ট্রাম্প লিখেছেন, তেহরান চুক্তিতে রাজী না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়াবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে শিগগিরই চুক্তি না হয়; যা (চুক্তি) সম্ভবত হবে; এবং যদি হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া’ না হয়, তবে আমরা ইরানের ক্ষেত্রে আমাদের সুন্দর ‘থাকা’ শেষ করব। তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেব।’
হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে হাইফার দক্ষিণে অবস্থিত ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘মিশমার আল-কারমেল’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা এই দফার অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননের আল-আদাইসা শহরের খানুক এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর সকাল ৮টা ১৫ মিনিট এবং ৮টা ২০ মিনিটে পরপর দুটি শক্তিশালী রকেট হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিপাইনে তিন শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধ: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিপাইন জুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে দেশটির তিন শতাধিক পেট্রোল স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে।
সরকারি পর্যবেক্ষক দল সোমবার জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপের কারণে অনেক স্টেশনে এখন আর কোনো জ্বালানি অবশিষ্ট নেই।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৩৬৫টি ফিলিপিনো পেট্রোল স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে শুরু করে, যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
চলমান এই সংকটের ফলে ফিলিপাইনের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে এবং যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশে সর্বাত্মক সামরিক আগ্রাসন চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। এলমাসরি জানান, ইসরায়েলের সবশেষ বাজেট ২৭১ বিলিয়ন (২৭ হাজার ১০০ কোটি) ডলার, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এ বিশাল বাজেট থেকেই বোঝা যায় যে ইসরায়েল বিভিন্ন ফ্রন্টে অনেকগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এলমাসরি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের বিশাল সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। যুদ্ধের সময় এ সহায়তার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।’ তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েলের ভেতরে হয়তো এখন এমন একটি ধারণা তৈরি হচ্ছে যে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টাচ্ছে। এখন অনেক মার্কিন শুধু ইসরায়েলের সমালোচনাই করছেন না, বরং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সমর্থনেরও বিরোধিতা করছেন।
এলমাসরি আরও বলেন, এ বিশাল বাজেট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইসরায়েল মনে করে না তারা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে আছে। বরং তারা হয়তো যুদ্ধের মাঝপথে বা শুরুর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
এলমাসরি মনে করেন, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পথে এগোচ্ছে তারা।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই উত্তেজনা ইয়েমেনকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের অতল গহ্বরে টেনে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এর ফলে এক দশকের বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া কেবল দীর্ঘায়িতই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক সংকট চরম সীমায় পৌঁছাবে।
জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা লিখেছেন, ‘আমি মনে করি না মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে, কারণ জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তেহরান প্রায় এক কোটি মানুষের শহর। তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি এই তথ্য ফাঁস করতে আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছি। নিউক্লিয়ার উইন্টার ঘটার আগেই তা ঠেকাতে আমি আমার দায়িত্ব স্থগিত করেছি, যাতে এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ বা সাক্ষী না হতে হয়।’
সাফার এই বক্তব্যের আগে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ডব্লিউএইচও আঞ্চলিক পরিচালক হানান বালখিও একটি সাক্ষাৎকারে জানান একই কথা। তিনি জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে পারমাণবিক ঘটনা, এটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে। আমরা যতটা প্রস্তুতি নিই না কেন, ক্ষতি ঠেকানোর কিছু নেই। এই অঞ্চলের জন্য এবং এটা ঘটলে বিশ্বের জন্য পরিণতি দশকের পর দশক ধরে থাকবে।’

