ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সহিংসতায় ১৮ প্রাণহানি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ২০:০২
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পবিত্র ‘পাম সানডে’তে চার্চে প্রবেশে বাধা এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্য দিয়ে এক উত্তপ্ত সপ্তাহ পার করল ফিলিস্তিন।
গাজায় গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান ও
কামান হামলায় নিহতদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য
করে চালানো এসব হামলায় জননিরাপত্তা ও বেসামরিক সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ নুসেইরাত ক্যাম্পে ড্রোন হামলায় ২ জন এবং ২৮ মার্চ পুলিশ চেকপোস্টে হামলায়
৬ জনসহ পৃথক অভিযানে আরও অনেক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’র তথ্যমতে, গত
অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র পর গাজায় এ
পর্যন্ত অন্তত ৭০৫ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, গাজায় জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের
তীব্র সংকটে স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। গত সপ্তাহে আলমা আবু রিদা নামে
এক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের
চলমান সংঘাতের অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইবাদত ও উপাসনা সীমিত করে
দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ গত ফেব্রুয়ারি থেকেই মুসলিমদের
জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার এক নজিরবিহীন ঘটনায় জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক
কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজাবাল্লাকে পূর্ব জেরুজালেমের ‘চার্চ অফ দ্য
হোলি সেপুলকার’-এ পাম সানডের
প্রার্থনা করতে বাধা দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। কয়েক শতাব্দীর ইতিহাসে চার্চের প্রধানকে
এভাবে বাধা দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী
এবং সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গত সপ্তাহে ৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বেথলেহেমের
কাছে মোহাম্মদ আল-মালাহি নামক এক ফিলিস্তিনিকে তার নিজ জমিতে গুলি করে হত্যা করে সেটলাররা।
এছাড়া হেবরন ও তুবাস এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা ও তাদের উচ্ছেদের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে
বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই পশ্চিম তীরে প্রায় ১,৬৯৭ জন
ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা গত বছরের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট ২০২৬ সালের
জন্য নতুন বাজেট অনুমোদন করেছে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
দেওয়ার একটি বিতর্কিত বিলও পাস করেছে নেসেট। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই
আইন ফিলিস্তিনিদের জীবন ও অধিকারের ওপর চরম বৈষম্যমূলক আঘাত। ইসরায়েলি উগ্র-ডানপন্থী
মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে এই আইনের সমর্থনে ফাঁসিকাষ্ঠের আকৃতির
ল্যাপেল পিন পরতে দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে একদিকে গাজায় মানবিক সংকট এবং
অন্যদিকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে উচ্ছেদ ও দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের
জীবন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

