যুদ্ধবিরতি পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে: স্টারমার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪১
কিয়ার স্টারমার
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে আলোচনা করবেন তিনি। ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে গত মঙ্গলবার এই
সমঝোতায় পৌঁছায় উভয় পক্ষ। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধ
বন্ধ না করে এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করে, তবে একটি ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস
হয়ে যাবে’। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মন্তব্যের
পর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
অবশেষে দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে
সম্মত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি
কার্যকর হবে তখনই যদি ইরান অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ
চলাচল শুরু করতে দেয়। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের
ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তারাও যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালী
দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের পথে কিয়ার স্টারমার
বলেন, “আমি রাতারাতি হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানাই।
এটি এই অঞ্চল তথা পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের অংশীদারদের
সঙ্গে নিয়ে এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তর করতে এবং হরমুজ প্রণালী
স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।”
সফরকালে স্টারমার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন
করা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফরটি যুদ্ধবিরতির
ঘোষণার আগেই পরিকল্পিত ছিল। কনজারভেটিভ দলের পক্ষে শ্যাডো হাউজিং সেক্রেটারি ও সাবেক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যার জেমস ক্লেভারলি বিবিসি ব্রেকফাস্ট-এ বলেন, “এটি ইরানের জন্য
একটি সুযোগ। ইরানকে এখন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আচরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নিতে হবে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে
না পারে, সেটিই ছিল এই যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র
তৈরির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে—এমন আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা
চালালে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়
এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে
জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিদের
নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালীর
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। স্যার কিয়ার স্টারমার শুক্রবার
যুক্তরাজ্যে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

