Logo

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি কিয়ার স্টারমার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১

রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার আগেই ঘোষণা করাকে একটি বড় 'ভুল' হিসেবে স্বীকার করেছেন স্টারমার সরকারের অন্যতম জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার। এই ঘটনার জেরে খোদ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় চলতি সপ্তাহটি স্টারমারের ডাউনিং স্ট্রিটে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিতর্কিত ব্যবসায়ী এবং যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার কারণে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে প্রথম থেকেই সমালোচনা চলছিল। সম্প্রতি জানা গেছে যে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানালেও সেই তথ্য প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে জানানো হয়নি। ফলস্বরূপ, ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন স্টারমার, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'হাউস অফ কমন্স'-এ এই বিষয়ে স্টারমারের বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। কেন তিনি জানতেন না যে পররাষ্ট্র দপ্তর ম্যান্ডেলসনের নিয়োগে আপত্তি জানিয়েছিল, সে বিষয়েই তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

স্কটল্যান্ড সেক্রেটারি ডগলাস আলেকজান্ডার সোমবার সকালে সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলেন, "পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভুল হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।"

তিনি স্বীকার করেন যে, নিয়োগের নাম ঘোষণার আগেই 'ডিপ ভেটিং' বা গভীর নিরাপত্তা তদন্ত সম্পন্ন করা প্রয়োজন ছিল এবং ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আলেকজান্ডার কিছুটা অনিশ্চয়তা বজায় রেখেই বলেন, "আমি আশা করি তিনি থাকবেন। তবে রাজনীতিতে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।"

এই ঘটনার জেরে স্টারমার পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ আমলা অলি রবিনসকে বরখাস্ত করেছেন। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সিভিল সার্ভিস প্রধান গাস ও'ডোনেল। তিনি এক নিবন্ধে লিখেছেন যে, স্টারমার এবং তার মন্ত্রীরা নিজেদের ভুল ঢাকতে আমলাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন, যা ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ও'ডোনেলের মতে, এটি বর্তমান সময়ের আমলা ও মন্ত্রীদের মধ্যকার অন্যতম ভয়াবহ সম্পর্কজনিত সংকট। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। লেবার পার্টির ভেতরেও অনেক এমপি এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। চলতি সপ্তাহে যদি এই বিষয়ে আরও কোনো নেতিবাচক তথ্য ফাঁস হয়, তবে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীর পদে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন