Logo

আন্তর্জাতিক

আদালতে হারলেও নিজের অবস্থানে অনড় ক্রিস মিনস

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০

আদালতে হারলেও নিজের অবস্থানে অনড় ক্রিস মিনস

প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস

নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত সরকারের জারি করা প্রতিবাদ-বিরোধী আইনকে 'অসাংবিধানিক' ঘোষণা করলেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। গত সপ্তাহে আদালতের দেওয়া এই রায়কে উপেক্ষা করে সোমবার তিনি দাবি করেছেন, তার সরকারের প্রবর্তিত এই আইনটি ছিল 'যৌক্তিক এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ'। তার এই মন্তব্যকে বিচার বিভাগের ওপর 'অভূতপূর্ব আক্রমণ' হিসেবে অভিহিত করেছে বিরোধী দল গ্রিনস।

গত বছর বন্ডি বিচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর সামাজিক সংহতি রক্ষার দোহাই দিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছিল মিনস সরকার। এই আইনের অধীনে পুলিশ যেকোনো মিছিল বা সমাবেশ তিন মাস পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পেয়েছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার এনএসডব্লিউ আপিল আদালত 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ' ও 'ব্ল্যাক ককাস'-এর পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, কেবল সামাজিক সংহতির দোহাই দিয়ে সব ধরনের প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করা সংবিধানসম্মত নয়। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা এবং সমাবেশের অধিকার হরণ করার জন্য এটি কোনো 'আইনগত ভিত্তি' হতে পারে না।

আদালতের রায়ের পর সোমবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খোলেন প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। তিনি আদালতের রায়কে সরাসরি মেনে না নিয়ে উল্টো প্রতিবাদকারীদের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সিডনির রাস্তায় গত দুই বছর ধরে 'ঘৃণ্য বক্তব্য' এবং 'সহিংস পরিস্থিতি' তৈরি করা হচ্ছে। বন্ডি বিচের ঘটনার পর তার সরকার যে আইনি পরিবর্তন এনেছিল, তাকে তিনি আবারও 'যৌক্তিক' বলে ডিফেন্ড করেন। তবে আদালতের রায় তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তার কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়নি।

গ্রিনস পার্টির বিচার বিষয়ক মুখপাত্র সু হিগিনসন প্রিমিয়ারের এই অবস্থানকে স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার একটি অসাংবিধানিক আইনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছেন। তার উচিত নিজের ভুল স্বীকার করা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা।”

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত প্রতিবাদকারীদের আইনজীবী মাজেদ খায়ের বলেছেন, প্রিমিয়ারের ব্যক্তিগত মতামত যা-ই হোক না কেন, দেশের অভিজ্ঞ বিচারকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই আইনটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অবৈধ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিডনি টাউন হলে আয়োজিত এক বিক্ষোভ থেকে ২৬ জন প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে এখন বাতিল হওয়া এই আইনের অধীনে মামলা দেওয়া হয়েছে। যদিও পুলিশ কমিশনার মাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন তারা মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা করছেন, কিন্তু প্রিমিয়ারের দাবি—অন্যান্য জরুরি আইনের অধীনেও এই গ্রেপ্তারি বৈধ হতে পারে।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু চার্জশিটে বাতিল হওয়া আইনের উল্লেখ রয়েছে, তাই এই মামলাগুলো আদালতে টিকিয়ে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হবে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন