জ্বালানি সংকটে ভারতে বাড়ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪২
হরমুজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আসন্ন কঠোর নির্গমন বিধিমালার দ্বিমুখী প্রভাবে ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা ও বিক্রিতে নজিরবিহীন উত্থান দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং দেশীয় বাজারে পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দ্রুত ইভি-র দিকে ঝুঁকছে।
২০২৬ সালের শুরুতে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল
যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
যদিও ভারত সরকার শুল্ক কমিয়ে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদী
সংকটের আশঙ্কায় ভোক্তারা পেট্রোল বা ডিজেল গাড়ির বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছেন। বাজার
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের এই অনিশ্চয়তা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ইভি কেনার সিদ্ধান্তকে
ত্বরান্বিত করেছে।
১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ভারত সরকার নির্গমন
পরীক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড WLTP (Worldwide Harmonized Light Vehicle
Test Procedure) গ্রহণ করেছে। এই পদ্ধতিতে ল্যাবরেটরির পরিবর্তে বাস্তব রাস্তায় গাড়ির
দূষণ পরিমাপ করা হয়। এই নিয়ম মানতে গিয়ে প্রচলিত জ্বালানি চালিত গাড়ির উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য
হারে বেড়েছে। পাশাপাশি, ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া CAFE III (Corporate
Average Fuel Efficiency) বিধিমালার কারণে গাড়ি নির্মাতারা এখন থেকেই হাইব্রিড ও ইলেকট্রিক
গাড়ি উৎপাদনে বেশি বিনিয়োগ করছে। এই বিধির ফলে ভবিষ্যতে প্রচলিত গাড়ির দাম প্রায় ১.২৫
লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা ক্রেতাদের ইভি-র দিকে আকৃষ্ট করার অন্যতম কারণ হয়ে
দাঁড়িয়েছে।
দিল্লি সরকার দূষণ রোধে ২০২৬-২০৩০ সালের
জন্য নতুন ইভি পলিসি ঘোষণা করেছে। এই নীতিমালার অধীনে বৈদ্যুতিক টু-হুইলার ও বাণিজ্যিক
যানবাহনের ওপর বিশেষ ইনসেনটিভ এবং ট্যাক্স রেহাই দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পেট্রোল চালিত
বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টাটা মোটরস,
মাহিন্দ্রা এবং মারুতি সুজুকির মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায়
বড় পরিবর্তন এনেছে। তেলের আকাশচুম্বী দাম ও সরকারি কড়াকড়ির চাপে পড়ে কোম্পানিগুলো এখন
দ্রুত নতুন নতুন ইভি মডেল বাজারে আনছে। লিজ প্রদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের বহরে পেট্রোল
গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

