প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জাপান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৮
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দীর্ঘ আট দশকের শান্তিবাদী নীতি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে দাঁড়ালো জাপান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজ বিদেশে রপ্তানির ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা বলয়ে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতেই এই বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই সংশোধনীর ফলে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
এখন থেকে বিদেশে স্থানান্তর বা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই
অস্ত্রগুলো কেবল তারাই কিনতে পারবে যারা জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি
দেবে। জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন
এবং ইন্দোনেশিয়াসহ অন্তত ১৭টি দেশ জাপানি অস্ত্র কেনার তালিকায় রয়েছে। ১৯৬৭ ও ১৯৭৬
সালে প্রণীত পূর্ববর্তী নিয়ম অনুযায়ী, জাপান কেবল নজরদারি বা মাইন অপসারণের মতো অ-প্রাণঘাতী
সরঞ্জাম রপ্তানি করতে পারত। নতুন নীতিতে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন থেকে সরাসরি যুদ্ধের
অস্ত্র বিক্রির পথ প্রশস্ত হলো।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, যাকে অনেক সময়
জাপানের 'আয়রন লেডি' বলা হয়, এই পরিবর্তনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, "বর্তমান
ভয়াবহ নিরাপত্তা পরিবেশে কোনো দেশই এখন আর একা নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে
পারে না।" উল্লেখ্য, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সাথে জাপানের ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি
চুক্তি হয়েছে, যার অধীনে জাপানি কোম্পানি 'মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ' অস্ট্রেলিয়ার
জন্য অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করবে।
জাপানের এই সামরিকীকরণের পদক্ষেপে তীব্র
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ
সম্মেলনে বলেন, "জাপানের এই বেপরোয়া ও নতুন ধাঁচের সামরিকীকরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে চীন সর্বদা সতর্ক থাকবে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"
অন্যদিকে, নীতি পরিবর্তনের দিনেই টোকিও’র
বিতর্কিত 'ইয়াসুকুনি শ্রাইন'-এ প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির উপঢৌকন পাঠানোর খবরটি দক্ষিণ
কোরিয়া ও চীনের সাথে জাপানের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই মন্দিরে
জাপানের সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলো এটিকে
জাপানের অতীত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতীক হিসেবে দেখে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর জাপানের
সংবিধানে যুদ্ধ ত্যাগের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সেই
ঐতিহাসিক অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

