ইরানের সঙ্গে সাত সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের চলমান দুই সপ্তাহের বিরতি শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তোলা এই যুদ্ধ নিরসনে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। ইরানের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ওই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে তেহরান এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এই যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, তিনি পাকিস্তানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের নেতা ও প্রতিনিধিরা যতক্ষণ পর্যন্ত একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে না পারছেন, ততক্ষণ দেশটির ওপর আমাদের আক্রমণ স্থগিত রাখতে আমি সম্মত হয়েছি।’
এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সফল করতে আমাদের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধটি সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’
শরিফ আরও লিখেছেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার বৈঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষর করতে সমর্থ হবে।’ তবে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার সময়সূচি কবে ঠিক হবে, বা আদৌ আলোচনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আবার আলোচনায় বসতে রাজি আছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কাউকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে বা স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর চলমান অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, এই অবরোধকে শুরু থেকেই 'যুদ্ধ ঘোষণা' হিসেবে অভিহিত করে আসছে ইরান। ট্রাম্পের এই ঘোষণা একপাক্ষিক কি না বা এতে মার্কিন মিত্র দেশ ইসরায়েল কিংবা ইরান একমত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'তাসনিম নিউজ' জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ করেনি। তারা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে মার্কিন নৌ-অবরোধ ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে একটি 'চাল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো মূলত একটি আচমকা হামলার জন্য সময় বাগিয়ে নেয়ার কৌশল। ইরানের এখন পালটা উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই মাসের যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়। ইরানের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগে মোট ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সংঘাত বন্ধে বড় ধরনের ছাড় পেতে ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর যে কৌশল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য ইরানি প্রশাসনকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক ক্রোধ কর্মসূচির আওতায় ইরানের ‘হঠকারিতা ও তাদের সহযোগীদের অর্থের উৎস’ বন্ধ করা অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি আছেন তিনি। দুই সপ্তাহের জন্য করা এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আজই শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্প আগে এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ না বাড়ানোর কথা বললেও তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকবে।
হরমুজে ৩ জাহাজে ইরানের হামলা: সতর্ক করে দেয়ার পরও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। গতকাল বুধবার সকালের দিকে এসব জাহাজে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। এর মধ্যে দুটি জাহাজকে ইরানের এ বাহিনী জব্দ করেছে।
আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশটির বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইউফোরিয়া নামের একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং সেটি এখন ইরান উপকূলে আটকা পড়ে আছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম বলেছে, এমএসসি ফ্রান্সেসকা এবং এপামিনোন্ডাস নামের দু’টি জাহাজকে ‘জব্দ’ করা হয়েছে। ওই দুই জাহাজ বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে আইআরজিসির গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়েছে। আক্রান্ত জাহাজটি গ্রিসের পতাকাবাহী এপামিনোন্ডাস বলে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত হয়েছে।
ইউকেএমটিও কোনও রেডিও সতর্কতা দেয়নি বলে দাবি করেছিলেন এপামিনোন্ডাসের ক্যাপ্টেন। তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা নুর নিউজ ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হরমুজ সচল করতে লন্ডনে ৩০ দেশের বৈঠক: দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে লন্ডনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে ৩০টিরও বেশি দেশ। গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের অংশ নেওয়ার কথা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নর্থউডের পার্মানেন্ট জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সে দুই দিনব্যাপী এই অধিবেশনে দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা, কমান্ড কাঠামো এবং ওই অঞ্চলে কীভাবে দ্রুত বাহিনী মোতায়েন করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মূলত ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার জেরে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে গত শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন করেন। সেখানে একটি স্বাধীন ও সম্পূর্ণ রক্ষণাত্মক বহুজাতিক মিশন গঠনের বিষয়ে দেশগুলো একমত পোষণ করে। গতকালের এই বৈঠককে সেই কূটনৈতিক ঐকমত্যকে একটি কার্যকর সামরিক পরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখনো আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি লিস ডুসেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ইসলামাবাদের প্রথম দফার আলোচনায় 'অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং সদিচ্ছা নিয়ে' অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অপর পক্ষ (যুক্তরাষ্ট্র) তাদের আচরণে আলোচনার প্রতি গুরুত্বের অভাব এবং অসৎ উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের 'ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তন' এবং 'যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকির' দিকেও আঙুল তোলেন। মূলত গত দুই দিনে ট্রাম্পের ধারাবাহিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষিতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত' প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে তিনি দেশটির 'প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস' করে দেবেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউস মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেছে যে, দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুললে বৈঠকে রাজি ইরান: ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিলে আবার আলোচনায় বসতে রাজি আছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি এ কথা জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ তবে নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন তিনি। ইরাভানি বলেন, ‘নতুন কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে।’
ইরান যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যদি রাজনৈতিক সমাধান চায়, তবে আমরা প্রস্তুত। আর যদি তারা যুদ্ধ চায়, ইরান সেটির জন্যও তৈরি।’
স্বাগত জানাল জাতিসংঘ-পাকিস্তান: যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে জানান, গুতেরেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি মনে করেন, এটি উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি ও আস্থা তৈরির পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
মুখপাত্র আরও বলেন, আমরা সব পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছি যা অস্ত্রবিরতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একটি টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে সবাইকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে উৎসাহিত করছি।
কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুজারিক জানান, পরবর্তী আলোচনা সফল করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে গুতেরেস পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দ্বন্দ্ব নিরসনে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি করবে।
এছাড়া স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে, ইসলামাবাদে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শোহবাজ শরিফ এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের অনুরোধে নেয়া হয়েছে এবং তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনিরের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি আমাদের অনুরোধ গ্রহণ করে যুদ্ধবিরতি বাড়িয়েছেন, যাতে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত সমাধানে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তার ভাষায়, আমাদের ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, তার ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্তরিকভাবে একটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখবে এবং ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় একটি ‘সমগ্র শান্তি চুক্তি’র দিকে এগোবে।
ইরানে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার ফাঁসি: ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক উচ্চপদস্থ সিভিল ডিফেন্স (বেসামরিক প্রতিরক্ষা) কর্মকর্তাকে ফাঁসি দিয়েছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানা গেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মেহেদী ফরিদ। ইরানের সুপ্রিম কোর্ট এই সাজা বহাল রাখার পর তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়।
মিজান নিউজ এজেন্সি জানায়, মেহেদী ফরিদ ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছিলেন। এসবের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার অভ্যন্তরীণ তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নকশা ও কর্মকর্তাদের নথিপত্র ছিল।
ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর বাতিল: শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফর বাতিল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।
ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির আশায় চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো বুধবার ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা ছিল ভ্যান্সের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সফর বাতিল করা হলো।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজের বরাতে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'সশরীরে বৈঠকের বিষয়ে পরবর্তী যেকোনো আপডেট হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হবে।'
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত এলো। পাকিস্তানের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হয়েছেন, যাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা যায়। এর ফলেই আপাতত উচ্চপর্যায়ের এই সরাসরি বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সমঝোতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
এ দুজনের অনুরোধেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদই বাড়াননি, বরং একে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত কূটনীতির জন্য বাড়তি সময় দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে শেষ চেষ্টা হিসেবে নয়, বরং শুরু থেকেই তারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এই যোগাযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানি রাষ্ট্রদূতের একটি বৈঠক হয়েছে এবং তাঁদের আলোচনা এখনো চলছে। মূলত পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি রূপরেখা ইরানকে পৌঁছে দিচ্ছে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চেষ্টা ট্রাম্পের: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য কোড ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়— সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসনের এমন এক বিস্ফোরক দাবিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এই সপ্তাহে ‘জাজিং ফ্রিডম’ নামক একটি পডকাস্টে ল্যারি জনসন দাবি করেন, হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প পারমাণবিক হামলা চালানোর জেদ ধরলে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সরাসরি তার বিরোধিতা করেন। জনসনের ভাষ্যমতে, জেনারেল কেইন দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টকে ‘না’ বলে দেন এবং সামরিক প্রধান হিসেবে নিজের বিশেষাধিকার প্রয়োগ করেন, যা নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রচণ্ড বাদানুবাদ হয়।
ল্যারি জনসনের এই দাবির সপক্ষে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল (শনিবার) জেনারেল কেইন ও পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে উপস্থিত হয়েছিলেন। পডকাস্টে একটি ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয় যেখানে জেনারেল কেইনকে অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক মিসাইল শেষ হয়ে গেছে: ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিল' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের 'প্যাট্রিয়ট' আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইলের মজুতের প্রায় অর্ধেক শেষ করে ফেলেছে। এ ছাড়াও আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরির ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর একটি নতুন বিশ্লেষণের বরাতে দ্য হিল জানায়, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র আওতায় পরিচালিত এই বিশাল বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বর্তমানে কমে আসা সমরাস্ত্রের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তা হলো: প্যাট্রিয়ট মিসাইল: মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশই শেষ হয়ে গেছে। থাড ইন্টারসেপ্টর: মোট তালিকার অর্ধেকেরও বেশি খরচ হয়ে গেছে। প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল: মোট মজুতের ৪৫ শতাংশের বেশি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে।
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি বাড়াতে আলোচনা চলছে: লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কাউকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে বা স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্ট আউন লিখেছেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসের এই পর্যায়ে নাগরিক শান্তি রক্ষা করা একটি রেড লাইন (চরম সীমা)।’ লেবাননের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অবসানে তিনি সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও জানান।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত একটি প্রস্তুতিমূলক সভায় লেবাননের প্রতিনিধিত্ব করবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হাদ্দাদ মাউয়াদ। সভায় তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও শহরগুলোতে ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের দাবি জানাবেন।
প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, এই আলোচনা চারটি শর্তের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে—ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বন্দিবিনিময় এবং লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন।
এর আগে লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের স্থানীয় সময় ১৬ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা বন্ধ হয়।
নিরাপত্তার জন্য চীনের দিকে ঝুঁকছে মধ্যপ্রাচ্য: মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া আধিপত্যে ভাগ বসাতে শুরু করেছে চীন। সেখানকার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই ইঙ্গিতই আরও জোরালো করে তুলেছে। পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে সউদী আরবও।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে সউদী আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বারবার ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ফোনালাপ করেছেন।
ফোনালাপে যুবরাজ সালমান স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফেরাতে চীনের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, শি জিনপিং প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানিয়েছেন, বেইজিং রিয়াদের সাথে কৌশলগত বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এখন কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে। যদিও প্রতিরক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সউদী আরবের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, তবুও বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই 'চীনমুখী যাত্রা' বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে চীনের এই সক্রিয় ভূমিকা বেইজিংকে ওয়াশিংটনের একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, চীন নিজেকে একজন 'স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার' হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোকে আকৃষ্ট করছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

