Logo

আন্তর্জাতিক

স্টারমারকে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া লেবার এমপিরা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:০১

স্টারমারকে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া লেবার এমপিরা

কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এক নাটকীয় মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং আসন্ন মে নির্বাচনের চাপে কোণঠাসা, তখন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসছেন দলের অনেক এমপি। তবে এই সমর্থনের পেছনে স্টারমারের প্রতি ভালোবাসা নয়, বরং ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য সময় কেনাই মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

লেবার পার্টির একটি প্রভাবশালী অংশ মনে করছে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য অ্যান্ডি বার্নহামই দলের একমাত্র তুরুপের তাস। কিন্তু আইনি ও কৌশলগত কারণে বার্নহাম বর্তমানে পার্লামেন্টের সদস্য নন, যা তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে প্রধান বাধা। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক এমপি স্টারমারকে এখনই পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তাদের পরিকল্পনা হলো, স্টারমারকে আরও কিছুদিন ডাউনিং স্ট্রিটে টিকিয়ে রাখা, যাতে সেই সময়ের মধ্যে বার্নহাম পার্লামেন্টে ফিরে আসতে পারেন এবং স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

একজন বর্ষীয়ান সেন্ট্রিস্ট এমপি সরাসরি বলেছেন, হয় অ্যান্ডি বার্নহাম, না হলে আমাদের ভরাডুবি নিশ্চিত। অন্য কেউ জেতার ক্ষমতা রাখে না। ফোকাস গ্রুপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বার্নহামের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের ধারণা, তিনি সাধারণ জনগণের কথা ভাবেনযা বর্তমান রাজনীতিতে বিরল। চলতি সপ্তাহে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ সংক্রান্ত ব্যর্থতা এবং হোয়াইট হলের সাথে স্টারমারের বিরোধ তাকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল খারাপ হলে স্টারমারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। তবে দলের বামপন্থী এবং ডানপন্থীউভয় ব্লকই বার্নহামের ফেরার পথ প্রশস্ত করতে স্টারমারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

স্টারমারের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে যাদের নাম আসছে, তাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে।  অ্যাঞ্জেলা রেনারেল বিরুদ্ধে এইচএমআরসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা রয়েছে। ওয়েস স্ট্রিটিং রাজনৈতিকভাবে কিছুটা আপসড বলে মনে করা হয়। এড মিলিব্যান্ড ২০১৫ সালের নির্বাচনে হারের তিক্ত স্মৃতি এখনো কাটেনি আর শাবানা মাহমুদ দলের একটি বড় অংশের কাছে তিনি অজনপ্রিয়।

ইরান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করাকে অনেকেই রাজনৈতিক আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন। জনমতের চাপ এবং কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ নির্বাচনের দাবি ওঠার ভয়ে লেবার এমপিরা কোনো অগোছালো ক্ষমতা হস্তান্তর চাইছেন না।

স্টারমার শিবিরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা ধরে রাখতে যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এমনকি মন্ত্রিসভার রদবদল বা প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বরখাস্ত করতেও তিনি দ্বিধা করবেন না।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন