Logo

আন্তর্জাতিক

শিশু নির্যাতনের বই লিখে দণ্ডিত অস্ট্রেলীয় লেখিকা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৫

শিশু নির্যাতনের বই লিখে দণ্ডিত অস্ট্রেলীয় লেখিকা

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এক লেখিকা তার উপন্যাসে একটি শিশুর ছদ্মবেশে রোল-প্লে’ বা যৌন উদ্দীপক বিষয়বস্তু চিত্রায়িত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত তাকে কারাদণ্ড না দিলেও ১৮ মাসের কমিউনিটি কারেকশন অর্ডার’ বা সামাজিক সংশোধনী আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী আট বছর তার নাম শিশু সুরক্ষা রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত থাকবে।

৩৪ বছর বয়সী লরেন অ্যাশলে মাস্ট্রোসা, যিনি একটি খ্রিস্টান দাতব্য সংস্থায় মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন, 'টোরি উডস' ছদ্মনামে ড্যাডিস লিটল টয়’ নামে একটি বই লেখেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বইটি অনলাইনে প্রি-রিলিজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং অন্তত ২১ জন পাঠক এটি পড়ার সুযোগ পান।

বইটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী লুসিকে কেন্দ্র করে, যে তার বাবার বন্ধুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সময় এক ছোট শিশুর মতো অভিনয় করে বা রোল-প্লে করে।

মঙ্গলবার সিডনির ব্ল্যাকটাউন লোকাল কোর্টে এই মামলার সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারক ব্রি চিশম মাস্ট্রোসাকে শিশু নির্যাতনমূলক বিষয়বস্তু তৈরি, সংরক্ষণ এবং বিতরণের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায় দেওয়ার সময় বিচারক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেভাবে একটি ছোট শিশুর সাথে যৌন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে সাজা না দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। শিশু যৌন শোষণকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, তা সে বইয়ের কাল্পনিক চরিত্রই হোক না কেন।”

আদালত আরও জানায়, মাস্ট্রোসা গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সাথে সহযোগিতা করলেও তিনি মাসের পর মাস ধরে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ কনটেন্ট লিখেছেন যা শিশু সুরক্ষা আইনের পরিপন্থী।

মাস্ট্রোসার আইনজীবী মার্গারেট কানিন এসসি আদালতকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তার মক্কেলকে দোষী সাব্যস্ত না করা হয়। তিনি যুক্তি দেখান যে, এটি একটি ভুল’ ছিল এবং তার মক্কেল স্রেফ একটি ইরোটিক (যৌন উত্তেজনামূলক) বই লিখতে চেয়েছিলেন, শিশু নির্যাতনের কোনো উপাদান তৈরির উদ্দেশ্য তার ছিল না।

শুনানিতে আরও বলা হয়, থাইরয়েড ক্যান্সার এবং বারবার গর্ভপাতের মতো মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে তিনি এই বইটিকে এসকেপ’ বা পলায়ন পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি তার চাকরি হারিয়েছেন এবং অনলাইনে প্রাণনাশের হুমকি ও ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছেন।

অন্যদিকে, ক্রাউন প্রসিকিউটর মিলিজানা মাসানোভিচ এই অপরাধকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বইটির বিষয়বস্তুই এর প্রমাণ। এ ধরনের লেখা শিশু নির্যাতনের বিষয়বস্তুকে স্বাভাবিকীকরণ করে এবং বাজারে শিশু শোষণের প্রবণতাকে উৎসাহিত করে।”

অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী তৈরি বা বিতরণের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। মাস্ট্রোসা কারাদণ্ড না পেলেও আগামী দেড় বছর তাকে কড়া আইনি নজরদারিতে থাকতে হবে এবং তাকে নিয়মিতভাবে সংশোধনী কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতে হবে। তিনি চাইলে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

এই ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়া জুড়ে সাহিত্যিক স্বাধীনতা বনাম নৈতিকতা ও শিশু সুরক্ষা আইনের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সিডনির আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাহিত্যের মোড়কে শিশুদের যৌন পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন