কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ব্রেকহীন উন্মত্ত ট্রেন’: বার্নি স্যান্ডার্স
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১২
বার্নি স্যান্ডার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স- এর দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিকাশকে একটি ‘ব্রেকহীন উন্মত্ত ট্রেনের’ সঙ্গে তুলনা করে এটি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
বুধবার ক্যাপিটল হিলে আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি সতর্ক করে বলেন, সিলিকন ভ্যালি থেকে বেইজিং পর্যন্ত চলা এই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় যদি এখনই লাগাম টানা না হয়, তবে মানবসমাজ এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, এই আলোচনায় প্রথমবারের মতো মার্কিন
আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে যোগ দেন চীনের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা, যা বিশ্বরাজনীতিতে এক
বিরল দৃশ্য তৈরি করেছে।
ভার্মন্টের স্বতন্ত্র এই সিনেটর তার বক্তব্যে
এআই-এর বহুমুখী ঝুঁকি তুলে ধরেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়
ব্যবস্থার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বেকারত্ব সৃষ্টি হতে পারে। যদি কোম্পানিগুলো
মানুষের বদলে যন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেয়, তবে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।
স্যান্ডার্স আরও বলেন, "বিশ্বের সবচেয়ে
ধনী ও শক্তিশালী ব্যক্তিরা এমন একটি ট্রেন তৈরি করছেন যার কোনো ব্রেক নেই। তারা নিজেরাই
স্বীকার করছেন যে, এই প্রযুক্তি ঠিক কীভাবে কাজ করে বা এটি কোন দিকে যাচ্ছে, তা তারা
পুরোপুরি বোঝেন না।" এছাড়া চ্যাটবটের ওপর কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত নির্ভরতা,
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ভঙ্গ এবং ভুল তথ্যের প্রসারের বিষয়েও
তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
এআই নিয়ন্ত্রণকে স্যান্ডার্স স্নায়ুযুদ্ধকালীন
পরমাণু চুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন, পরমাণু অস্ত্রের মতো এআই-এর অপব্যবহার
রোধে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তি হওয়া প্রয়োজন।
এই প্যানেল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ এআই সেফটি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স-এর
বিজ্ঞানী জেং ই এবং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যু ল্যান।
অধ্যাপক ল্যান বলেন, "বিশ্বের মাত্র
কয়েকটি দেশ ও কোম্পানির হাতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি থাকবে আর বাকি বিশ্ব দরিদ্র
হয়ে পড়বে—এমন পৃথিবী কল্পনা করাও কঠিন। এআই-এর এই বিভাজন দূর করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ও চীনের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।"
চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এই আলোচনা নিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের
সিনিয়র ফেলো মাইকেল সোবোলিক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলেন, "এআই নিয়ে স্যান্ডার্সের
উদ্বেগ যৌক্তিক হলেও চীনের মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।"
অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে
বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণের নেতৃত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের
হাতেই থাকা উচিত।
বার্নি স্যান্ডার্স অনেক দিন ধরেই এআই-এর
প্রসারের বিপক্ষে সোচ্চার। গত মার্চ মাসে তিনি এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া
ওকাসিও-কর্তেজ একটি বিল উত্থাপন করেন, যেখানে নতুন এআই ডেটাসেন্টার নির্মাণের ওপর সাময়িক
স্থগিতাদেশ জারির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্যান্ডার্সের মতে, "এআই এবং রোবোটিক্স
মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটাচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি অভূতপূর্ব।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কংগ্রেস এই বিপ্লবের প্রকৃতি ও প্রভাব বুঝতে এখনো অনেক পিছিয়ে
রয়েছে।"
পরিবেশগত দিক থেকেও এআই ডেটাসেন্টারগুলোর
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকদের বড় অংশ মনে করছেন, উদ্ভাবনের পাশাপাশি নৈতিকতা
ও সুরক্ষার প্রশ্নে বিশ্বনেতাদের এক টেবিলে বসা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

