Logo

আন্তর্জাতিক

মোজতবা

মার্কিন ব্যর্থতায় হরমুজে নতুন অধ্যায় শুরু

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৮

মার্কিন ব্যর্থতায় হরমুজে নতুন অধ্যায় শুরু

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় এবং দ্বিতীয় দফাও বাতিল হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের একটি সংশোধিত প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছে। যেটি শুক্রবার ওয়াশিংটনের হাতে পৌঁছাতে পারে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন মধ্যস্থতায় জড়িত একাধিক সূত্র।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান  এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ‘একই সময়ে’ শেষ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। গত বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে  ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে আলোচনার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ধারণা জানিয়েছেন তিনি। আলাপে ইরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। যদি এ যুদ্ধবিরতি কোনো কারণে লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তা সবার জন্য ‘অত্যন্ত বিধ্বংসী পরিণতি’ বয়ে আনতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

আর ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দেশটিতে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসি জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত। ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি, বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইরান শুক্রবার সংশোধিত প্রস্তাব দিতে পারে: মধ্যস্থতায় জড়িত একাধিক সূত্র জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের সংশোধিত শান্তি প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছে। এটি শুক্রবারের মধ্যেই আসতে পারে।’

এর আগের প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা। স্থানীয় সময় গত বুধবার ট্রাম্প নিজেই বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা এখন টেলিফোনের মাধ্যমে চলছে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফা বাতিল হয়ে গেছে। তাই এখন আর ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে ইসলামাবাদে যাওয়া হচ্ছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের যেকোনো প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে তাতে থাকা পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর। তারা এ বিষয়ে কতটা ছাড়া দেবে সেটির ওপর। তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙক্ষা বাদ না দেয়, তাহলে কোনো চুক্তিই হবে না।

ইরানে স্বল্পমেয়াদি ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের: ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে দেশটিতে ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ একগুচ্ছ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

বিবিসি জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের চেয়ে কিছুটা সীমিত।

ট্রাম্প এখনো এই পরিকল্পনার অনুমোদন দেননি, বরং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলা নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ট্রাম্প জনসমক্ষে একে ‘বোমার চেয়েও কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এক্সিওস ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টকমের এ পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হলো—দীর্ঘদিন ধরে বোমাবর্ষণ না করে দ্রুত বড় ধরনের ক্ষতি করা, যাতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। আরেকটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যার জন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।

ফিরছে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস ফোর্ড’: রেকর্ডসংখ্যক দিন দায়িত্ব পালন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। ৩০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এ অভিযানে রণতরীটির অন্যতম প্রধান কাজ ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারে অংশ নেওয়া।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়বে ইউএসএস ফোর্ড। মে মাসের মাঝামাঝি এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত নিজস্ব বন্দরে পৌঁছাবে।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। গত সপ্তাহে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ পৌঁছানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে তিনটি মার্কিন রণতরী অবস্থান করছে। ইরান যুদ্ধের একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলাকালে ২০০৩ সালের পর এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন করা হলো। এর আগে জানুয়ারি থেকে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনও এ অঞ্চলে অবস্থান করছিল।

গত বছরের জুনে নরফোক নেভাল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করার পর ইউএসএস ফোর্ড প্রায় ১০ মাস সমুদ্রে অবস্থান করে। এর মাধ্যমে এটি ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম সময় মোতায়েন থাকা রণতরীর নতুন রেকর্ড গড়েছে।

ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে কোনো মার্কিন রণতরীর এটিই দীর্ঘতম অভিযান। এর আগে ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ইউএসএস লিংকন টানা ২৯৪ দিন সমুদ্রে অবস্থান করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিল। ইউএসএস ফোর্ড সমুদ্রের বুকে ২৯৫তম দিন পার করার মাধ্যমে সেই রেকর্ড ভেঙে দেয়।

ইরানের ৫০ কোটি ডলার ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ: ইরানের প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক তাণ্ডব কর্মসূচির কারণে তেহরান সরকার এখন গভীর ‘সংকটে’র মধ্যে রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ কবজায় নিতে পেরেছি। এর আগে আরও ১০ কোটি ডলার জব্দ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে অঙ্কটা এখন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। এছাড়া আমরা সব জায়গায় তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোও ফ্রিজ (লেনদেন স্থগিত) করে দিচ্ছি।’

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জানান, গত বছরের মার্চে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচারণা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট তাকে এই চাপের মাত্রা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সরকার ও কোম্পানিগুলোকেও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

বেসেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা ইরানি তেলের ক্রেতাদের স্পষ্ট বলে দিয়েছি যে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক যদি তাদের সিস্টেমে ইরানি তেলের লেনদেন হতে দেয়, তবে তাদের ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’ মার্কিন এই কর্মকর্তার দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রচারণ ও নৌ-অবরোধ ইরানের অর্থনীতির স্থায়ী ক্ষতি করবে।

হরমুজে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ পরিপ্রেক্ষিতে হরমুজ প্রণালিতে এক ‘নতুন অধ্যায়ের’ সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ মন্তব্য করেন।

মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোত প্রচারিত হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা ও আগ্রাসনের দুই মাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় লজ্জাজনক ব্যর্থতার পর পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।’ এই বিবৃতি ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইআরএনএ পোস্ট করে জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবসের স্মরণে। ১৬২২ সালে পর্তুগিজ বাহিনীকে হরমুজ প্রণালি থেকে উৎখাত করার ঘটনা এই দিনে উদযাপন করা হয়।

মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষা করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এগুলো ধ্বংস করতে চান। ট্রাম্পের ওই ইচ্ছার প্রতি তেহরানের এটা স্পষ্ট প্রতিবাদ।

মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানিরা দেশের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে তাদের জাতীয় পুঁজি হিসেবে দেখে। ভূমি, নৌ ও আকাশ সীমান্তের মতোই পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও রক্ষা করবে ইরান।

নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ তারবার্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২৮ এপ্রিলের ওই বার্তায় বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘ম্যারিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ (এমএফসি) নামের একটি নতুন উদ্যোগ অনুমোদন করেছেন। এটিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত-পরবর্তী সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এমএফসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অবকাঠামো রক্ষা এবং প্রধান সমুদ্রপথগুলোতে জাহাজ চলাচলের অধিকার বজায় রাখতে এই কাঠামোটি অপরিহার্য।’

এই উদ্যোগের আওতায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অংশীদার দেশগুলো এবং শিপিং শিল্পের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সদর দপ্তর থেকে পেন্টাগন সরাসরি জাহাজগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং তাৎক্ষণিক ট্রাফিক সমন্বয়ের কাজ করবে বলে তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ একসাথে শেষ হতে পারে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান  এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ‘একই সময়ে’ শেষ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। গতকাল বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনার পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ধারণা জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিএনএনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কেইটলান কলিন্স। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কোনটি আগে শেষ হবে।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কোন যুদ্ধ আগে শেষ হবে? আমার মনে হয়, দুই যুদ্ধই একই সময়ে শেষ হতে পারে। সামরিক দিক দিয়ে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই পরাজিত।’

‘ইরানেরও প্রায় একই অবস্থা। ভুয়া সংবাদ পড়লে আপনি অনেক কিছু জানতে পারবেন না, কিন্তু সত্যি হলো—ইরানের ১৫৯টি যুদ্ধজাহাজ ছিল। সব এখন পানির নিচে। স্বাভাবিকভাবেই, এটা খুব ভালোৃ কারণ এই যুদ্ধজাহাজগুলো ধ্বংসের কারণে নৌযুদ্ধে ফিরে আসা এখন অনেক কঠিন ইরানের জন্য।’

সিএনএনের সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার কি মনে হয় তারা (ইরান) ভালো করছে? যেখানে তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমান বাহিনী নেই, প্রতিপক্ষের বিমান ধ্বংসের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই।’

ট্রাম্পকে বিধ্বংসী পরিণতির হুঁশিয়ারি পুতিনের: ইরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যদি এ যুদ্ধবিরতি কোনো কারণে লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তা সবার জন্য ‘অত্যন্ত বিধ্বংসী পরিণতি’ বয়ে আনতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান ইস্যুতে গত বুধবার টেলিফেনে ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সে সময়েই এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুতিন।

রুশ প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর এবং বাসস্থান ক্রেমলিনের কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের অন্যতম মুখপাত্র ইউরি উশাকভ মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, উভয় প্রেসিডেন্টের এই ফোনালাপ ছিল ‘স্পষ্ট এবং নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট।’

প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন যে যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বিরতি ভেঙে ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে শুধু ইরান কিংবা তার প্রতিবেশীদের জন্যই নয়- বরং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য তা মারাত্মক বিধ্বংসী পরিণতি বয়ে আনবে।

লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই: লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির। দেশটিতে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চলমান থাকার মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের পরিদর্শনে গিয়ে ইয়াল জামির বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তা হলো- ইসরায়েলি জনবসতিতে যেন সরাসরি কোনো হামলা না হয়, সে অবস্থান নিশ্চিত করা। আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি এবং বর্তমানে এ অবস্থানেই আছি। আমাদের হয়তো এখানেই অবস্থান করতে হবে।’

সেনাদের উদ্দেশে ইয়াল জামির আরও বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করতে হবে। ‘‘সন্ত্রাসীদের’’ অবকাঠামো ধ্বংস ও তাঁদের খুঁজে বের করে নির্মূল করতে হবে।’

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২ হাজার ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশজুড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন