মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) এক উগ্রবাদী মিলিশিয়া বাহিনীর নৃশংস হামলায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দেশটির গোলযোগপূর্ণ ইতুরি প্রদেশে কোডেকো মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্যরা এই হত্যাযজ্ঞ চালায়।
গতকাল শনিবার স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো উদ্ধৃত করে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এ সংবাদ দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ওই সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিলের শেষে ইতুরি প্রদেশে হামলার এ ঘটনাটি ঘটে। কোডেকো মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলাটি চালায়। এলাকাটিতে নিরাপত্তা অভাব থাকায় মৃতদেহগুলো কয়েকদিন ধরে পড়েছিল। নিরাপত্তা সূত্রগুলো মৃতের সংখ্যা ৬৯ বলে জানিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বেসামরিক সুরক্ষা কর্মকর্তা দিউদোনে লোসা জানিয়েছেন, এ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০ জনেরও বেশি।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ডি আর কঙ্গো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, মিলিশিয়া বাহিনী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে তিন দশক ধরে চলা সংঘাতে অস্থির হয়ে আছে।
এর আগে ডি আর কঙ্গোতে থাকা জাতিসংঘ মিশন দেশটির অস্থিরতা কবলিত পূর্বাঞ্চলে বেসামরিকদের লক্ষ্যস্থল করে চালানো ‘প্রাণঘাতী’ হামলার ঢেউয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছিল।
কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তি মিশন মনুস্কো জানিয়েছিল, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু ও ইতুরি প্রদেশের এলাকাগুলোতে ‘সম্প্রতি বহু বেসামরিক নিহত হয়েছে’।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার ঘটনাটি ঘটে গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে। তবে ওই এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনার কারণে মৃতদেহগুলো বেশ কয়েকদিন ধরে ঘটনাস্থলেই পড়েছিল। নিরাপত্তা সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা ৬৯ বললেও স্থানীয় বেসামরিক সুরক্ষা কর্মকর্তা দিউদোনে লোসা দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে, ডিআর কঙ্গোতে নিযুক্ত জাতিসংঘ শান্তি মিশন ‘মনুস্কো’ দেশটির পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক ‘প্রাণঘাতী’ হামলার ঢেউয়ের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও সতর্কতা জারি করেছে। মিশনটি জানিয়েছে, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু এবং ইতুরি প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো গত তিন দশক ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, মিলিশিয়া বাহিনী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে অস্থির হয়ে আছে। বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার লড়াই বর্তমানে চরমে পৌঁছেছে, যার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

