Logo

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ২১:৫৩

যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে ইরান। এই সংঘাত বন্ধ করতে শান্তি চুক্তির জন্য এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে একাধিক দফায় পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা একমত হতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ইরানের কাছে ১৪ দফার প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবারের মধ্যে ইরান প্রস্তাবটির জবাব দেবে, এমনটি আশা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেটি হয়নি। গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। তবে সেখানে উভয়পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।  

গত শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। তবে পরিস্থিতি এখন শান্ত হয়েছে। কিন্তু আরও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানি বন্দরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি জাহাজে হামলা করে সেগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র বেপরোয়া সামরিক অভিযান বেছে নেয়। মার্কিন প্রস্তাবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও বড় ধরনের কোনো সাড়া মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। যুদ্ধ অবসানের অগ্রগতি নেই বললেই চলে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফলে যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।  এদিকে, আগামী সপ্তাহে (১৪-১৫ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু হওয়ার কথা। এ জন্য সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য চাপ বাড়ছে।

মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান: সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সর্বশেষ যে প্রস্তাব দিয়েছিল, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। গতকাল রোববার আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আলোচনার প্রথম পর্যায়ে শত্রুতা বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ইরানের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে শুধু এটুকু বলা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এই পর্যায়ে আলোচনা এই অঞ্চলে যুদ্ধের অবসানের বিষয়টির ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।

ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেন, ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তান নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানিরা নিশ্চিত করছেন, তারা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের বার্তা পেয়েছে। যেহেতু পাকিস্তান এটি পেয়েছে, এখন দেখার বিষয় হলো কখন এটি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয় এবং এরপর ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া কী হয়।

তিনি আরও বলেন, বার্তা পাওয়ার পর ওয়াশিংটন থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাত নিরসনের ভবিষ্যৎ। যেহেতু পাকিস্তান সফলভাবে ইরানের এই বার্তা বা জবাবটি গ্রহণ করেছে, তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। 

হামলা হলে পাল্টা আক্রমণের হুমকি ইরানের: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে গত শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর এক দিন আগে ওমান উপসাগরে দুটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে এ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং শত্রুপক্ষের জাহাজে জোরালো হামলা চালানো হবে।’

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ওমান উপসাগরে ইরানি পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো বিকল করে দেয়। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, জাহাজ দুটি ইরানের ‘বন্দর অবরোধ’ উপেক্ষা করেছিল।

ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনার জবাবে ইরানি নৌবাহিনীও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এর আগের রাতেই হরমুজ প্রণালিতে আরেক দফা উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চায় তেহরান। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে চলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

উপকূলে ছড়িয়ে পড়েছে তেল: এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগের দিন কাতারের নেতা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিপ্রচেষ্টার বিষয়টি আলোচনায় আসে। যুদ্ধ চলাকালে কাতারেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। গ্লোবাল মনিটরিং প্রতিষ্ঠান অরবিটাল ইওএস জানিয়েছে, দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে প্রায় ৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেলের আস্তরণ ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরি জানিয়েছে, গতকালের মধ্যে তেলের আস্তরণ অনেক কমে গেছে এবং সম্ভবত তেল অবকাঠামো থেকে লিকেজের কারণে এটি হয়েছে।

খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু এবং দেশটির সংকটাপন্ন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। পরে জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। আর ট্রাম্প এ সপ্তাহে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চালানো স্বল্পমেয়াদি মার্কিন নৌ অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বন্ধ করে দেন।

হরমুজ চিরতরে বন্ধের হুমকি ইরানের: পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি জাতিসংঘ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাহরাইনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই চরম পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সংসদ সদস্য। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি এই কড়া বার্তা দেন। 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে যারা ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। 

বাহরাইনের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, তাই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না যাতে এটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তেজনা চরমে।

গত মাসেই একই ধরনের একটি প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া ভেটো দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তেহরানও ওই অঞ্চলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। 

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরাইলের গোপন ঘাঁটি: ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরাইল একটি অতি গোপনীয় সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই গোপন ঘাঁটিটি মূলত ইসরাইলি বিমান বাহিনীর লজিস্টিক হাব এবং বিশেষ বাহিনীর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্র দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতিতে এই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়।

এই সামরিক আস্তানার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানে হামলা চালিয়ে ফেরার পথে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলোকে সহায়তা করা এবং কোনো বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলটদের উদ্ধারে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন রাখা।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব: ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল শনিবার মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও ইরানের ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রাশিয়া।

পুতিন জানান, ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার কাজে রাশিয়া অংশ নিয়েছিল এবং এবারও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করছে মস্কো।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ ঘিরে আলোচনায় অংশ নেওয়া সব পক্ষই প্রথমদিকে তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান আরও কঠোর করে এবং দাবি তোলে, ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই স্থানান্তর করতে হবে। এর পরপরই ইরানও কড়া অবস্থান নেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, মস্কো এখনও ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং যত দ্রুত সম্ভব চলমান সংঘাতের অবসান হবে বলে তারা আশা করছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা: লেবানন সীমান্তেও যুদ্ধবিরতি চাপে রয়েছে। প্রতিদিনই ইসরায়েল ও ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। গতকাল শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণের একটি মহাসড়কেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা হিজবুল্লাহর ঐতিহ্যগত ঘাঁটির বাইরের এলাকা।

তিন সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে তীব্র হামলাগুলোর একটি বলা হচ্ছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, চলমান হামলার জবাবে তারা অন্তত দুই দফায় ড্রোন দিয়ে উত্তর ইসরায়েলে সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, বিস্ফোরকবোঝাই কয়েকটি ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এতে এক সেনা গুরুতর এবং আরও দুজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন।

এ উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সাল থেকে এ দুই দেশ একরকম যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। তবে হিজবুল্লাহ এ আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে।

এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগ এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। গতকাল শনিবার রাতভর চলা এই বিক্ষোভে জনতা সরকারের যুদ্ধনীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ইরান ও লেবানন ইস্যু এবং কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলে হামলা শুরু করে ইরান। হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতেও। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু হওয়ার আগেই এই সংঘাতের ইতি টানতে চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কারণ, এই যুদ্ধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন