কাউন্সিলর একরাম হত্যা
শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:২৫
ছবি: সংগৃহীত
মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহ জানান, একরামুল হক হত্যার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এরপর কর্মকর্তারা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে রোববার ফরমাল চার্জ জমা দেওয়া হয়। তবে সব আসামির নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সি একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় 'আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে...' একরামুলের মেয়ের একটি অডিও রেকর্ড তখন দেশজুড়ে আলোচিত ছিল। অভিযোগ ওঠে, র্যাব পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
একরামের মৃত্যুর পর র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়, একরামের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
একরামুলের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর তখন বলেছিলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে সাধারণ পোশাকের কিছু লোক শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়। তারা জানায়, জমি বিক্রির ব্যাপারে একরামুলের সঙ্গে কথা বলতে চায় তারা। পরে গভীর রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুলের নিহত হওয়ার খবর পান।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক একরামের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ধরনের সব হত্যাকাণ্ডের বিচারিক তদন্ত করতে বলেছিলেন।
একরামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাত কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
একরাম হত্যার সময় র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বেনজীরের পাশাপাশি কক্সবাজারে র্যাব-৭-এর সাবেক অধিনায়ক মিফতা উদ্দিন আহমেদের নামও আসে।
বাংলাদেরে খবর/আরইউ

