ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বিএভিএস শাখার উপসচিব মো. আব্দুল ওয়াদুদ সরকারি বাসা বরাদ্দ পেয়েও সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে উঠতে পারছেন না।
Bangladesh Allocation Rules-1982 অনুযায়ী গত ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর ঢাকার ইস্কাটনের কাজলী-৬ (এফ শ্রেণি) বাসাটি বরাদ্দ পান আব্দুল ওয়াদুদ। যার স্বারক নং ২০.৪৩.০০০০.০০২.০৩.২৬০৩.৮০.৭৬৪।
একই বছরের ৬ অক্টোবর অফিসিয়ালি দখলভার বুঝে পেলেও উক্ত বাসায় যুগ্মসচিব মমিনুল থাকায় তিনি বাসায় উঠতে পারেননি। সর্বশেষ এ বছরের ৬ মার্চ আব্দুল ওয়াদুদ চাবি বুঝে পান এবং বাসায় উঠতে গেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব একেএম শওকত আলম মজুমদার বাধা প্রদান করেন এবং জানান, বাসাটি তার স্ত্রী শারাবান তাহুরার (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের যুগ্মসচিব) নামে বরাদ্দকৃত। তখন আব্দুল ওয়াদুদ জানান উক্ত বাসা তার নামে বরাদ্দ এবং সরকারিভাবে ভাড়া কর্তন করা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহার পরামর্শ দিলেও শওকত বিষয়টি কর্ণপাত করেননি। পরবর্তীতে আব্দুল ওয়াদুদ আবাসন পরিদপ্তরে গিয়ে তার বরাদ্দকৃত বাসা অন্যকে কেন বরাদ্দ দেওয়া হলো জানতে চাইলে নথি যাছাই করে দেখে শারাবান তাহুরার নামে বরাদ্দকৃত যা ভুলক্রমে হয়েছে। এ বছরের ১০ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনে শারাবান তাহুরার নামে কাজলী-৬-এর বরাদ্দ বাতিলও করা হয়।
পরে আব্দুল ওয়াদুদের পক্ষে গণপূর্তের প্রকৌশলীর শ্রমিক কাজলী-৬-এ কাজ করতে গেলে শওকত এসে গণপূর্তের শ্রমিকদের মারধর করে বের করে দেন এবং বাসায় তালা লাগিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, শওকত ও শারাবান তাহুরা অঞ্জলী-৩ নামক বরাদ্দকৃত বাসায় বসবাস করতেছেন এবং এ বছরের ১৬ এপ্রিল রূপালী-৮ নামে আরও একটি বাসা তার (শওকত) নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজলী-৬ বাসাটিও দখল করে রেখেছে।
ঘটনার বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সরকারের একজন যুগ্মসচিব মুখের ভাষা এত নোংরা হতে পারে জানা ছিল না। গরিব শ্রমিকদের এভাবে মারধর করা হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তা ছাড়া অনুমতিপত্র ছাড়া সরকারি বাসায় তালা লাগিয়ে দেওয়া রীতিমতো সরকারি আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে বাংলাদেশের খবরের এই প্রতিবেদক শারাবান তাহুরা ও শওকত আলম মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তারা কেউই ফোন না ধরায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমি ট্যুরে আছি। ঢাকায় অফিসে এসে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলব।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

