যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়টি সংসদে উঠুক: রুমিন ফারহানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:০১
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি সংসদ অধিবেশনে আলোচনায় আনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
নির্বাচনের আগে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ধারা আছে বলে তখন আপত্তি উঠেছিল, আর সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিলও করতে পারে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে সংসদে কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
রুমিন ফারহানা বলেন, মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় এসেছে। ওই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
রুমিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমরা রপ্তানি করি, আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমরা আমদানি করি না, যে কারণে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বিরাট এবং এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে।
চুক্তি সইয়ের সময় নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি বলেন, আমরা জানি যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
তার কথায়, তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংক মহল থেকে বলা হয়েছিল, একটি অনির্বাচিত সরকার এ ধরনের চুক্তি সই করতে পারে না।
রুমিন ফারহানা বলেন, এই চুক্তিতে অনেকগুলো ক্লজ আছে যেটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী। সুতরাং নির্বাচনের পরে যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসবে তখন যেন এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা দেখলাম যে না অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শোনে নাই এবং ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
এ সময় তিনি আরো কিছু বলতে চাইলে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন।
স্পিকারের বক্তব্যের পরও রুমিন ফারহানা আরো এক মিনিট সময় চান। তখন তিনি বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে যদি সরকার চায় তারা এটি (চুক্তি) বাতিল করতে পারে। চুক্তিটি সংসদে আনা হোক। তবে স্পিকার বলেন, অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

